অস্ট্রেলিয়া টিমের উচ্ছাস ,ছবি: টুইটার।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারলো পাকিস্তান

অ্যাডিলেড, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯  : সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারলো সফরকারী পাকিস্তান। ব্যাটসম্যানদের পর বোলারদের নৈপুন্যে অ্যাডিলেডে দিবা-রাত্রির টেস্টে পাকিস্তানকে আজ ইনিংস ও ৪৮ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিলো অসিরা। ব্রিসবেনে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ইনিংস ও ৫ রানের ব্যবধানে হারিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে ৭ খেলায় ১৭৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থাকলো অস্ট্রেলিয়া। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৩৬০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ভারত।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ৫৮৯ রানের জবাবে স্পিনার ইয়াসির শাহ’র ১১৩ রানের সুবাদে ৩০২ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

ফলে ফলো-অনে পড়ে আবারো ব্যাট হাতে নামে পাকিস্তান। তৃতীয় দিন শেষে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা। ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করে ইনিংস হারের শংকায় থাকে পাকিস্তান। ইনিংস হার এড়াতে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে আরও ২৪৮ রান করতে হতো সফরকারীরদের।

তৃতীয় দিন পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল-হক শুন্য, অধিনায়ক আজহার আলি ৯ ও বাবর আজম ৮ রান করে ফিরেন। তবে শান মাসুদ ১৪ ও আসাদ শফিক ৮ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন।

চতুর্থ দিন সকাল থেকে ব্যাট হাতে সাবলীল ছিলেন মাসুদ ও শফিক। তাই শুরুর ধাক্কাটা সামলে উঠে সহজেই দলের ইনিংস বড় করছিলেন তারা। দু’জনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় দলের স্কোর শতরান অতিক্রমও করে। ততক্ষণে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মাসুদ। তবে জমতে থাকা জুটিতে ভাঙ্গন ধরান অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার নাথান লিঁও। ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ১২৭ বলে ৬৮ রান করে লিঁও শিকার হন মাসুদ। চতুর্থ উইকেটে মাসুদ-শফিক ১০৩ রান যোগ করেন।

মাসুদের বিদায়ের পর হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন শফিক। হাফ-সেঞ্চুরির পর নিজের ইনিংসটি বড় করতে পারেননি শফিক। তিনিও লিঁও’র বলে আউট হন। ৫টি চারে ১১২ বলে ৫৭ রান করেন লিঁও।

দলীয় ১৫৪ রানের মধ্যে মাসুদ-শফিকের মত সেট ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর পাকিস্তানের ইনিংস হারের শংকা আবারো উঁিকঝুঁকি মারতে থাকে। এ অবস্থায় দলকে বড় জুটি এনে দেয়ার চেষ্টা করেন ইফতেখার আহমেদ ও উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান। দলকে ইনিংস হার থেকে রক্ষার জন্য বড় জুটির চেষ্টায় ছিলেন রিজওয়ান ও ইয়াসির। এক পর্যায়ে দলের স্কোর দু’শও অতিক্রম করেন তারা। আর এই জুটির মাঝেও আবারো বাঁধা হয়ে দাড়ান লিঁও। ২৭ রান করা ইফতেখারকে আউট করে নিজের তৃতীয় উইকেট শিকার করেন লিঁও।

২০১ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর টেল-এন্ডাররা ব্যাট হাতে চমক দিয়ে দলের ইনিংস হার এড়াতে পারেননি। ২৩৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে চমক দেখিয়ে সেঞ্চুরি করা স্পিনার ইয়াসির এবার থামেন ১৩ রানে। রিজওয়ানের ব্যাট থেকে আসে ৪৫ রান। ইনিংসে ৬৯ রানে ৫ উইকেট নেন স্পিনার লিঁও। টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৬তমবারের মত পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নিলেন লিঁও। এছাড়া জশ হ্যাজেলউড ৬৩ রানে ৩টি উইকেট নেন। ম্যাচ ও সিরিজ সেরা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

অস্ট্রেলিয়া : ৫৮৯/৩ ডি, ১২৭ ওভার
ওয়ার্নার- ৩৩৫*
লাবুশানে -১৬২
আফ্রিদি- ৩/৮৮

পাকিস্তান : ৩০২ ও ২৩৯, ৮২ ওভার
মাসুদ- ৬৮
শফিক- ৫৭
লিঁও- ৫/৬৯

ফল : অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৪৮ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া)।
সিরিজ সেরা : ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া)।

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *