ছবিঃঅ্যারন ফিঞ্চ-বিরাট কোহলি

আগামীকাল মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-অস্ট্রেলিয়া

মুম্বাই, ১৩ জানুয়ারি ২০২০ : গেল বছরের মার্চে দেশের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হারে ভারত। ঐ হারের বদলা নেয়ার সুযোগ এখন টিম ইন্ডিয়ার সামনে। আগামীকাল থেকে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করছে বিরাট কোহলির দল। এই সিরিজ জিতে গেল বছরে হারের প্রতিশোধ নিতে চায় ভারত। অপরদিকে, দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলতে নামছে অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর আর কোন সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলতে নামেনি অসিরা। তারপরও এই সিরিজের আশানুরুপ পারফরমেন্স করার ব্যাপারে আশাবাদি অস্ট্রেলিয়া। মুম্বাইয়ে আগামীকাল সিরিজের প্রথম ওয়ানডে শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ২টাায়।

২০০৯ সালের পর গেল মার্চে ভারতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ নেয় অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের প্রথম দু’ম্যাচ দাপট দেখিয়ে জিতেছিলো ভারত। এরপর টানা তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতে নেয় অসিরা। দলের নেতৃত্ব ছিলেন ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ। ঐ সিরিজ হারের স্মৃতি ভারতের কাছে এখনও টাটকা। তাই দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া ভারত।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ঐ হারটি ছিলো অধিনায়ক হিসেবে দেশের মাটিতে বিরাট কোহলির প্রথম সিরিজ হার। এটি মনে দাগ কেটেছে কোহলির। তাই তিন ম্যাচের সিরিজ শুরুর আগে কোহলি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে আমরা দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেছিলাম। কিন্তু শেষ তিন ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া সেরা পারফরমেন্সই দেখিয়েছে। জয় তাদেরই প্রাপ্য ছিলো। তবে এবার আমরা উজ্জীবিত। সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদি। অস্ট্রেলিয়ার সাথে গেল বিশ্বকাপে আমরা জিতেছিলাম। ওভালে ৩৬ রানের ঐ জয় আমাদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। তবে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সহজ হবে না। তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদেরকে হারাতে দলেন সকলকেই সেরা পারফরমেন্স করতে হবে। ব্যাটসম্যানদের বড় রান করতে হবে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার রান চেজ করার ক্ষেত্রে বেশ পারদর্শী। বোলারদেরও ভালো করতে হবে। বিশেষভাবে পেসারদের। জসপ্রিত ফিরেছে। পুরনো ফর্মেই আছে সে। শ্রীলংকা সিরিজে পুরনো বুমরাহকেই দেখেছি আমরা। সিরিজ জয়ের ব্যাপারে পুরো দল আশাবাদি।’

গেল বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারলেও, অস্ট্রেলিয়ার পারফরমেন্স ছিলো চোখে পড়ার মত। লিগ পর্বে ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে থেকে সেমিফাইনালে উঠেছিলো অসিরা। ৯ খেলায় ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিলো ভারত। পুরো আসরে ভালো খেলেও সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় অসিরা।

এরপর ইংল্যান্ডের সাথে অ্যাশেজ সিরিজ খেলে অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ২-২ ব্যবধানে শেষ করে তারা। অ্যাশেজের পর দেশের মাটিতে পাকিস্তান নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দু’টি টেস্ট সিরিজ খেলে অসিরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ ছিলো। সবগুলো ম্যাচই জিতে অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডে না খেললেও বিশ্বকাপের পর শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দু’টি টি-২০ সিরিজ খেলে জয় তুলে নেয় অসিরা।

এদিকে, টেস্টে দুর্দান্ত একটি গেল বছর কাটানো মার্নাস লাবুশেন প্রথমবারের মত ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথের উপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার জন্য অনুপ্রেরণা। যা গেল বিশ্বকাপে দেখা গেছে। ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুড়ি ফুটিয়েছেন ওয়ার্নার। রানে ছিলেন স্মিথও। তবে অ্যাশেজে তিনি ছিলেন ভয়ংকর। তাই দলের সকলের ইনফর্মে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ফিঞ্চ, ‘আমরা দল হিসেবে দারুন একটি মৌসুম কাটিয়েছি। টেস্ট দলের খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেছে। ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ ড্র’র পর দু’টি সিরিজ জয় প্রশংসার। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেট আমরা কিছুটা হলে ব্যাকফুটে। কারণ দীর্ঘদিন ওয়ানডে খেলা হচ্ছে না। তারপরও সকলেই খেলার মধ্যে ছিলো। আশা করি, খেলোয়াড়রা দ্রæতই মানিয়ে নিতে পারবে। যে কোন ফর্মেটেই ভারতের কন্ডিশনে খেলা সব সময়ই কঠিন। তারপরও দলে সেরা খেলোয়াড়রা আছে। সিরিজে ভালো ফল করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদি।’

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *