আফিফ হোসেন ,ছবিঃটুইটার।

আমার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে : আফিফ

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯  : জয়ের জন্য ১৪৫ রানের লক্ষ্য, ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬০ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় আট নম্বরে ব্যাট হাতে নামেন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেন। সাধারনত মিডল-অর্ডারেই ব্যাট করে থাকেন তিনি। কিন্তু আট নম্বরে নেমেও যে, ব্যাট হাতে দুত্যি ছড়ানো যায় এবং একক প্রচেষ্টায় দলকে ম্যাচও জেতানো যায় সেটি গতরাতে প্রমান করেছেন আফিফ। ২৪ বলে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ২৬ বলে ৫২ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন বাঁ-হাতি ব্যাটস্যান আফিফ। ১৯ বছর বয়সী আফিফের এমন ব্যাটিং নৈপুন্যে হারা ম্যাচ ৩ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। দলকে এভাবে জেতাতে পারায় মনের ইচ্ছাটা পূরণ হয়েছে বলে জানান আফিফ, ‘সবারই ইচ্ছে থাকে এমন ইনিংস খেলে দেশকে জেতানোর। সিরিজের প্রথম ম্যাচে আমার সেই ইচ্ছাটা পূরণ হয়েছে।’

আফিফ যখন ক্রিজে যান, ততক্ষনে খাদের কিনারায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে দেন ক্রিকেট ভক্তরা। কারন মাত্র ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ৫১ বলে ৮৫ রান দরকার ছিলো বাংলাদেশের। এ অবস্থায় নিজের প্রথম মুখোমুখি হওয়া বলেই বাউন্ডারি মারেন আফিফ। ইঙ্গিত দিয়েছিলেন চমক দেখানোর। শেষ পর্যন্ত তাই করেছেন। মাত্র ২৪ বলে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের পথ সহজ করে ফেলেন এই তরুন। কিন্তু এমন কঠিন পরিস্থিতির মাঝে দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরির পরও কোন উদযাপন করেননি আফিফ। কেন করেননি? ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের উত্তরে আফিফ বলেন, ‘যখন ফিফটি হয়েছে খেয়াল করিনি। তখন চিন্তায় ছিল ম্যাচ শেষ করার। ভাবনা ছিল ম্যাচ শেষে আনন্দ উদযাপন করব। ম্যাচটা শেষ করতে পারিনি। তার আগেই আউট হতে হয়েছে।’

দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে ম্যাচ জেতালেও, ম্যাচের শেষ পর্যন্ত থাকার আশা পূরণ হয়নি আফিফের। তবে নিজের ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্ট আফিফ, ‘নিজের ব্যাটিং নিয়ে অবশ্যই সন্তুষ্ট। কারণ দল জিততে পারে এমন ইনিংস খেলেছি। নট আউট থাকতে পারলে নিজের কাছে আরও ভালো লাগতো।’

পরিস্থিতি যেমনই হোক, নিজের ইচ্ছে মতো খেলতে পারায় খুশি আফিফ। তাকে কেউ কোন ধরনের পরিকল্পনা বা নিয়ম বেঁধে দেননি বলে জানান তিনি, ‘আমার ইচ্ছা ছিলো আমার মতো খেলবো, আমি সব সময় আমার মতো করে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি ব্যাটিংয়ে যাবার আগে আমার সাথে কারো কথা হয়নি। ম্যাচের আগে সবাই আমাকে বলেছে, নিজের মতো করে খেলতে। কেউই বাধা দেয়নি তাই ভালো খেলতে পারছি।’

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *