এক বছর পর সিরিজ সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল দক্ষিণ আফ্রিকা

লুঙ্গি এনগিডির বোলিং ও ইয়ানেমান মালানের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে এক বছর পর ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে কোন সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। গতরাতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেট হারিয়ে সিরিজ জয়ের বন্ধ্যাত্ব ঘোঁচায় প্রোটিয়ারা। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অসিদের ৭৪ রানে হারিয়েছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা। গেল বছরের মার্চে দেশের মাটিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা।

গেল বছর শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর ইংল্যান্ডে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যর্র্থতা। এরপর দু’টি টেস্ট সিরিজে হার, একটি ওয়ানডে সিরিজে ড্র এবং তিনটি টি-২০ সিরিজের দু’টিতে হার-একটিতে ড্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাই সিরিজ জয়ের জন্য মুখিয়ে ছিলো প্রোটিয়ারা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ডৎতে সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তেই ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলেই সিরিজ জয়, এমন সমীকরন নিয়ে খেলতে নেমে টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিং করতে নামে প্রোটিয়ারা। ব্যাট হাতে নেমে ৩৯ বলে ৫০ রানের সূচনা করেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্না ও অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। ওয়ার্নার ২৩ বলে ৩৫ রান করে ফিরলেও, ৮৭ বলে ৬৯ রান করেন ফিঞ্চ।

মিডল-অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও মানার্স লাবুশেন এ ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন। ওয়ার্নারের পর স্মিথকে ১৩ ও লাবুশেনকে শুন্য রানে আউট করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার এনগিডি।

ফিঞ্চের সাথে তৃতীয় উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়েন ডি আর্চি শর্ট। মিচেল মার্শের সাথে চতুর্থ উইকেটে ৬৬ রানের জুটি গড়ে দলকে ভালো অবস্থায় রেখেছিলেন শর্ট। ৪১ দশমিক ৪ ওভারে দলের স্কোর ২২৪ রানে পৌঁছেও দেন শর্ট। কিন্তু তার আউটের পর অস্ট্রেলিয়ার পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস খেলতে দেননি এনগিডি। ফলে পুরো ৫০ ওভার খেলে ২৭১ রানেই অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। শর্ট ৮৩ বলে ৬৯ রান করেন। এনগিডি ১০ ওভারে ৫৮ রানে ৬ উইকেট নেন। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নিয়ে সেরা বোলিং ফিগার দাঁড় করান এনগিডি।

২৭২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শুন্য হাতে স্বাগতিক অধিনায়ক কুইন্ট ডি কককে বোল্ড করেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক । দ্বিতীয় উইকেটে জন জন স্মুটসকে নিয়ে ৯১ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন ওপেনার মালান। স্মুটস ৪১ রানে ফিরলেও দলের রানা সচল রেখেছিলেন মালান।

চার নম্বরে নামা কাইল ভেরিনিও ৩ রানের বেশি করতে পারেননি। এতে কোন ক্ষতি হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। কারন চতুর্থ উইকেটে হেনরিখ ক্লাসেনকে নিয়ে ৮১ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখান মালান।

সেই স্বপ্নকে সত্যি করেছেন মালান। পঞ্চম উইকেটে ডেভিড মিলারকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৯০ রান যোগ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঙ্খিত সিরিজ জয়ের স্বাদ দেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রথম সেঞ্চুরি করেন মালান। তার এই সেঞ্চুরিটি দলের জয়ে বড় অবদান হিসেবে লিপিবদ্ধ হলো। কারন এনগিডির সাথে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন মালান। ১৩৯ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১২৯ রানে অপরাজিত থাকেন মালান। ২৯ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন মিলার। অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার এডাম জাম্পা ৪৮ রানে ২ উইকেট নেন।

৭ মার্চ পচেফস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
অস্ট্রেলিয়া-২৭১/১০ (৫০ ওভার , রান রেট -৫.৪২)
ব্যাটিং :
শর্ট -৬৯
ফিঞ্চ -৬৯
বোলিং :
এনগিডি-১০-০-৫৮-৬
নর্টেজ-১০-০-৫৯-২

দক্ষিণ আফ্রিকা -২৭৪/৪ (৪৮.৩ ওভার , রান রেট -৫.৬৪)
ব্যাটিং :
মালান-১২৯*
ক্লাসেন -৫১
বোলিং :
জাম্পা-১০-০-৪৮-২
স্টার্ক -৯.৩-০-৫৩-১

টস :অস্ট্রেলিয়া , ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত
ফলাফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা :এনগিডি, মালান (দক্ষিণ আফ্রিকা )

 

 

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *