এ্যাশেজ সিরিজ ,ছবিঃ সংগৃহীত।

এ্যাশেজের পাঁচটি রেকর্ড, যা কখনো ভাঙ্গা যাবে না

লন্ডন, ৩১ জুলাই, ২০১৯  : রেকর্ড সৃষ্টি হয় ভাঙ্গার জন্য। তবে এমন কিছু রেকর্ড আছে যা কখনো ভাঙ্গা যায় না। সেই চার্লস ব্যানারম্যান, ডন ব্র্যাডম্যানের আমল থেকে শুরু করে জিম লেকার, ইয়ান বোথাম সহ সাম্প্রতিক কালের এ্যালিস্টার কুক ও স্টিভ স্মিথের আমলে অ্যাশেজে অনেক রেকর্ড হয়েছে এবং এদের অধিকাংশ ভেঙ্গেও গেছে।

আবার অনেক রেকর্ড ইতোমধ্যে পাহাড় সমান উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। কিছু কিছু রেকর্ড আবার সেই পথের দিকেই হাটছে। তন্মধ্যে আবার এমন কিছু রেকর্ড এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যা মিচেল স্টার্ক, এ্যালিস্টার কুক, স্টিভ স্মিথ ও জেমস এন্ডারসন নজীরবিহীন দক্ষতা অর্জন করা সত্বেও কখনো ভাঙ্গতে পারবেন না।

এখানে এ্যাশেজের পাঁচটি রেকর্ডের কথা উল্লেখ করা হল, যা কখনো ভাঙ্গা যাবে না।

শেন ওয়ার্নের উইকেট সংখ্যা: এ্যাশেজের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন। মাত্র ৩৬টি ম্যাচ থেকে ১৯৫ উইকেট শিকার করেছেন এই লেগ স্পিনার। যা নির্দিষ্ট একটি দলের বিপক্ষে টেস্টে সর্বাধিক উইকেট শিকারের বিশ্ব রেকর্ড। ১৫৭ টি উইকেট নিয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গ্লেন ম্যাকগ্রা।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই রেকর্ড ভাঙ্গা যাবে না। এর অন্যতম কারণ, এটি ভাঙ্গতে হলে একজন বোলারের অসাধ্য সাধন করতে হবে। কোন বোলার যদি ওয়ার্নের মত দুর্দান্ত গতিতেও এগাতে থাকেন, তারপরও তাকে অন্তত আটটি এ্যাশেজ সিরিজে খেলতে হবে। এর অর্থ হলো তাকে অন্তত দেড় যুগ নিজের সেরা অবস্থানে থেকে খেলা চালিয়ে যেতে হবে।

বর্তমান যুগে পেস বোলাররা যে হারে ইনজুরিতে পড়ছেন, বিশ্বমানের স্পিনারের যে ঘাটতি এখন দেখা যাচ্ছে, তাতে এ রেকর্ড আদৌ ভাঙ্গা হবে বলে মনে হয়না। এমনকি বর্তমানে জেমস এন্ডারসন ও স্টুয়ার্ট যথাক্রমে ৮৭ ও ৮৪ উইকেটের মালিক। অর্থাৎ ৩০ বছরের কোটায় থাকা দুই বোলারকে ওই রেকর্ডে পৌঁছতে হলে আরো ১০০ উইকেটেরও বেশী উইকেট সংগ্রহ করতে হবে।

ডন ব্র্যাডম্যানের সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড: কিংবদন্তী এই ক্রিকেটারের অনেক অসাধারণ রেকর্ড রয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ সেঞ্চুরির রেকর্ডটি উল্লেখ করার মত। সুনির্দিষ্ট একটি টেস্ট দলের বিপক্ষে এ্যাশেজে তার ১৯টি সেঞ্চুরি এখনো বিশ্বসেরা রেকর্ড। যেটি ভাঙ্গতে হলে বোলারদের চেয়েও বেশী সময় ধরে খেলা চালিয়ে যেতে হবে একজন ব্যাটসম্যানের। যেটি বলতে গেলে প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।

১২ সেঞ্চুরি নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন জ্যাক হবস। অথচ ৫ সেঞ্চুরি নিয়ে বর্তমান সময়ে সেরা অবস্থানে আছেন স্টিভ স্মিথ। ৩৭ ম্যাচ থেকে ১৯টি সেঞ্চুরি হাকিয়েছেন ব্র্যাডম্যান। যার অর্থ প্রতি দুই ম্যাচের বিপরীতে একটিরও বেশী সেঞ্চুরি। কাউকে যদি ব্র্যাডম্যানের রেকর্ডের কাছাকাছিও আসতে হয় তাহলে সেরা ফর্মে থেকে পরবর্তী একটি বা দুটি অ্যাশেজ সিরিজে খেললে চলবে না। কমপক্ষে পাঁচ বা ছয়টি এ্যাশেজ সিরিজে খেলতে হবে তাকে। তাই সেরা ফর্মে থাকা সত্বেও কোন ব্যাটসম্যানের এই রেকর্ড ভাঙ্গা প্রায় অসম্ভব।

একটি এ্যাশেজ টেস্টে দলগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ: টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে শুধুমাত্র দুটি দল এক ইনিংসে ৯০০রান সংগ্রহ করেছিল। ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ড সর্বপ্রথম টেস্টে সর্বাধিক রান সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছিল। যেটি ১৯৯৭ সালে ভেঙ্গে দিয়েছিল শ্রীলংকা।

বর্তমানে যে ভাবে ক্রিকেটের মান বেড়ে যাচ্ছে, এবং ফলাফল নির্ভর যে আধুনিক ক্রিকেটের প্রচলন ঘটেছে, তাতে এমন একটি সংগ্রহ দাঁড় করানোটা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। ভাল রান রেটের মাধ্যমে ৯০০ রানের বেশী সংগ্রহ করতে হলে একটি দলের অন্তত দুই দিন ব্যাট করতে হবে। যদি কোন দল টেস্ট বাঁচাতে খেলতে চায়, তাহলে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া কেন অন্য কোন দলই দুই দিন ব্যাটিং করবে না।

১৯৩৮ আনরে ওভালে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে ইংল্যান্ড ৩৩৫.২ ওভার ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে রেকর্ড পরিমান ৯০৩ রানে ইনিংস ঘোষনা করেছিল। ফলে ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভের মাধ্যমে ১-১ ব্যবধানে সিরিজটিতে সমতায় ফিরে আসে। যেটি অ্যাশেজ সিরিজে এখনো একটি দলের সর্বাধিক সংগ্রহ।

এক টেস্টে সর্বাধিক উইকেট শিকার: টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে ১০ উইকেট শিকার করা প্রথম বোলার জিম লেকার। যেটি টেস্ট ম্যাচে সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ডে স্থান পেয়েছে। ১৯৫৬ সালে এ্যাশেজের ম্যানচেস্টার টেস্টে তিনি ৯০ রানে ১৯ উইকেট শিকার করেছিলেন। ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভ করে ইংল্যান্ড।

টেস্টের ইতিহাসে শুধুমাত্র দুইজন বোলার এক ইনিংসে ১০ উইকেট শিকারের নজীর সৃষ্টি করেছেন। তবে লেকারের যাদু করি ওই স্পেলের পর দীর্ঘ ছয় যুগ পেরিয়ে গেলেও এ্যাশেজ সিরিজে কোন বোলারই ১৬ উইকেটের বেশী সংগ্রহ করতে পারেনি। যে কারণে ইংলিশ তারাকার রেকর্ডটি এখনো অক্ষত রয়েছে।

এমনকি সর্বশেষ দুই দশকে শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা, জেমস এন্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের মত তরকারা দুই দলের হয়ে মাঠ কাপালেও কেউ ১২টির বেশী উইকেট দখল করতে পারেনি। ১৯৯৯ সালে সিডনি টেস্টে স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল ১২ উইকেট সংগ্রহ করেছিলেন।

এ্যাশেজ টেস্টে সর্বোচ্চ রান: এ্যাশেজ সিরিজে ডন ব্র্যাডম্যানের সর্বোচ্চ রানের কের্ডটি ভাঙ্গতে না পারার অন্যতম কারণ হচ্ছে শুধুমাত্র এই দুই দলের মধ্যে আগে যে পরিমান খেলা হতো এখন তা হচ্ছেনা। কারণ দল দুটিকে এখন নিয়মিত ভাবে আরো ছয়টি ভিন্ন দলের সঙ্গে খেলতে হয়। যে কারণে নিজেদের মধ্যে আগের মত এত অধিক পরিমাণ খেলার সুযোগ আর হবেনা। কোন একজন খেলোয়াড়ও এতো বেশী সংখ্যক ম্যাচে খেলার সুযোগ পাবেনা।

২০০৬ সাল থেকে এ্যাশেজে খেলা এলিস্টার কুক মাত্র ২০০০ রান পেরিয়েছেন। বর্তমান সময়ের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার এই সংগ্রহই সর্বোচ্চ। অপরদিকে মাত্র ৩৭ ম্যাচে অংশ নিয়ে ব্র্যাডম্যান সংগ্রহ করেছেন ৫০২৮ রান। এটি যে কোন একটি দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড তা নয়, এটি একটি দলের বিপক্ষে টেস্টের রেকর্ড হয়ে থাকবে।

গড়ে প্রায় ৯০ রানের উপরে থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০০০ রানের মাইলফলক টপকে গেছেন ব্র্যাডম্যান। এটিও কোন একটি দেশের বিপক্ষে একজন ব্যাটসম্যানের গড় রান রেটের ক্ষেত্রে সেরা। অন্য কোন ব্যাটসম্যানই ৪০০০ রানের বেশী যেতে পারেননি। সুতরাং এই রেকর্ডটিও অক্ষত হয়ে থাকবে।

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *