ব্র্যাডম্যান ও ওয়ার্নার ,ছবিঃ সংগৃহীত।

এ্যাশেজ ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের মালিক ব্র্যাডম্যান, সর্বোচ্চ উইকেট ওয়ার্নারের

ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০১৯: ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরনো এবং আকর্ষণীয় এ্যাশেজ অর্থাৎ ‘ছাই’ সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া। আগামীকাল এজবাস্টনের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে পাঁচ টেস্টের ৭১তম সিরিজ। ১৮৮২ সালে থেকে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া এ্যাশেজ সিরিজ খেলে আসছে। যার মধ্যে রয়েছে স্মরণীয় অনেক ম্যাচ, যার মাধ্যমে তৈরী হয়েছে খেলাটির সেরা খেলোয়াড়দের কেউ কেউ।

স্যার ডেনাল্ড ব্র্যাডম্যান এবং জিম লেকার থেকে শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও স্যার এ্যালিস্টার কুকদের মতো অনেকেই রেকর্ড বইয়ে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন, কিছ স্মৃতি রেখে গেছেন যা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার আরেকটি এ্যাশেজ সিরিজের আগে কিছু রেকর্ডধারীদের তালিকা:
এ্যাশেজ সিরিজে সর্বোচ্চ রানের মালিক কে? এমন কোন রেকর্ড কি আছে যা ডন ব্র্যাডম্যান করেননি? এবং ১৯০২ সালে সৃস্টি হওয়া কোন রেকর্ডগুলো অক্ষত আছে?

এ্যাশেজ সিরিজে সর্বোচ্চ রান, সর্বোচ্চ উইকেট, সর্বোচ্চ সংগ্রহ এবং আরো কিছু রেকর্ড

এ্যাশেজ টেস্টে সর্বোচ্চ রান, সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ সংগ্রহ:
অবধারিতভাবেই এ্যাশেজ সিরিজে সর্বোচ্চ রানের মালিক স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান। মাত্র ৩৭ টেস্টে ১৯টি সেঞ্চুরিসহ তার মোট রান ৫০২৮। যা কেবল এ্যাশেজ রেকর্ডই নয়, টেস্ট ক্রিকেটে একটি নির্দিস্ট দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ডও। ১৯৩০ এ্যাশেজে তার করা ৯৭৪ রান এক টেমস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ রানও বটে। তবে এ্যাশে সিরিজে দুইটি ট্রিপল সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যান হলেও এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের মালিক ব্র্যাডম্যান নন। এ রেকর্ডের মালিক স্যার লিওনার্ড হাটন। ১৯৩৮ এ্যাশেজে তার করা ৩৬৪ রানের ইনিংসটি টুর্নামেন্টে ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এ্যাশেজ টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট, সবচেয়ে বেশিবার দশ উইকেট, সেরা বোলিং ফিগার:
এ্যাশেজ সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী চার বোলারই অস্ট্রেলিয়ার, যেখানে সবার ওপরে আছেন শেন ওয়ার্ন। তিনি মাত্র ৩৬ ম্যাচে ১৯৫ উইকেট শিকার করে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। টেস্ট ইতিহাসে একটি নির্দিস্ট দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের বিশ্ব রেকর্ডের মালিকও ওয়ার্ন। এ্যাশেজ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চার বার দশ উইকেট শিকারের মালিকও এ স্পিন কিংবদন্তী। সবচেয়ে বেশিবার (১২) পাঁচ উইকেট শিকারের রেকর্ডটি সিড বার্নস।

১৯৫৬ আসরে ম্যানচেস্টার টেস্টে এক ইনিংসে ১০টিসহ ম্যাচে ১৯ উইকেট শিকারের রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন জিম লেকার। এ্যাশেজ ও টেস্ট ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ডও যথাক্রমে ৫৩ রানে ১০ উইকেট এবং ৯০ রানে ১৯ উইকেট। একই আসরে লেকারের ৪৬ উইকেট শিকার এ্যাশেজ ও টেস্টে এক সিরিজে সর্বোচ্চ শিকারের রেকর্ডও।

সর্বোচ্চ সংগ্রহ, সর্বনিম্ন সংগ্রহ:
এ্যাশেজে সর্বোচ্চ দশটি দলীয় সংগ্রহের মধ্যে ইংল্যান্ড করেছে মাত্র দুইটি। তবে একটি এ্যাশেজ টেস্টে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহটি রয়েছে ইংলিমদের দখলে। ১৯৩৮ আসরে ওভালে ৭ উইকেটে ৯০৩ রানে ইনিংস ঘোষনা করে ইংল্যান্ড দল। যা টুর্নামেন্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড। কেবল শ্রীলংকা দল এ রেকর্ড ভাঙ্গার আগে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এটাই ছিল বিশ্ব রেকর্ড।

এ্যাশেজ ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় রানের রেকর্ডটি অস্ট্রেলিয়ার। ১৯০২ আসরে বার্মিহামে তারা মাত্র ৩৮ রানে অলআউট হয়েছিল। একশ’ বছর পরও এ রেকর্ডটি অক্ষুন্ন আছে এবং কোন দলই এ রেকর্ড ভাঙ্গার কাছাকাছিও আসেনি।

সবচেয়ে বেশি ম্যাচ, ক্যাচ:
এ্যাশেজ সিরিজে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি আছে অস্ট্রেলিযান ব্যাটসম্যান সিড গ্রেগরির দখলে। তিনি খেলেন ৫২ টেস্ট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এ্যালান বোর্ডার। যার মধ্যে জয়ী হয়েছেন ১৩ টেস্টে। এ্যাশেজে অধিনায়ক সবেচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও জয়ের রেকর্ডটিও দখলে রেখেছেন বোর্ডার।

এ্যাশেজ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেয়ার রেকর্ডটি ইয়ান বোথামের। ৩২ ম্যাচে তার ক্যাচ সংখ্যা ৫৪। সর্বোচ্চ ডিসমিজালের রেকর্ডের মালিক মালিক ইয়ান হিলি।১৩৫ ব্যাটসম্যানকে ডিসমিজাল করেছেন তিনি। তবে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ৩১টি স্টাম্পিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন বার্ট ওল্ডফিল্ড।

এ্যাশেজ সিরিজে শীর্ষ তিন জুটিতে আছেন ব্র্যাডম্যান। যার মধ্যে আছে ১৯৩৪ আসরে ওভালে বিল পন্সফোর্ডের সঙ্গে রেকর্ড ৪৫১ রানের জুটিটি।

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *