এ্যাশেজ ট্রফি ,ছবিঃ সংগৃহীত।

এ্যাশেজ সিরিজের তিন গুরুত্বপূর্ণ লড়াই

লন্ডন, ৩১ জুলাই, ২০১৯  : এবার এ্যাশেজের শিরোপা পুনরুদ্ধারে মনোনিবেশ করেছে বিশ্বকাপ জয়ী ইংল্যান্ড। আর পুরনো শত্রুদের বিপক্ষে ২০০১ সালের পর প্রথমবারের এ্যাওয়ে সিরিজ জয়ে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া।

আগামীকাল এজবাস্টনে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর প্রক্কালে তিনটি মুল লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ওয়ার্নার বনাম রয়: ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার এই দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানই প্রাধান্য বিস্তারে নিজেদের প্রমানের চেষ্টা করবে।

বিশ্বকাপে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন অসি ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার। তবে গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হবার পর ফের টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি।

৩২ বছর বয়সি ওয়ার্নারের রয়েছে ২১টি টেস্ট সেঞ্চুরি। দলকে দ্রুত প্রতিপক্ষের নাগালের বাইরে নিয়ে যাবার দক্ষতা তার মধ্যে রয়েছে। ইংল্যান্ড চাইবে তাকে দ্রুত সাজঘরে ফেরাতে।
২৯ বছর বয়সি জেসন রয় ইংল্যান্ডের হয়ে ৮৪টি একদি

নের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর গত সপ্তাহে এক মাত্র টেস্টে আয়্যারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। এখন দেখার বিষয় টেস্ট ম্যাচে তিনি নিজেকে কতটুকু মেল ধরতে পারেন।

অবশ্য অস্ট্রেলীয় পেসার জস হ্যাজেলউড তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সীমিত ওভারের ম্যাচের তুলনায় টেস্ট হচ্ছে ভিন্ন বলের খেলা। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই টেস্ট ক্রিকেটে রয় কতটুকু যেতে পারেন। তিনি মাত্র একটি টেস্টে খেলেছেন। এটি সত্যি যে ওয়ানডে ক্রিকেটের ওপেনিংয়ের চেয়ে আলাদা টেস্টের ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করা।


স্মিথ বনাম রুট: ২০১৭-১৮ সালে যখন ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল, তখন দলীয় নেতৃত্বে ছিলেন জো রুট ও স্টিভ স্মিথ। এরপর নেতৃত্ব হারান স্মিথ। বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে নিষিদ্ধ হবার পর প্রথম ভিনদেশে টেস্ট খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। বিশ্বকাপ চলাকালে ওয়ার্নারের মত স্মিথও ইংলিশ দর্শকদের কাছ থেকে পেয়েছেন নেতিবাচক অভ্যর্থনা। যে কারণে নিজেকে প্রমানের তাগিদ অনুভব করছেন তিনি।

৬১.৩৭ ব্যাটিং গড়ে ৬৪ টেস্টে ২৩ সেঞ্চুরি হাকানো স্মিথ এখনো অস্ট্রেলিয় শিবিরের মুল ভরসা। সর্বশেষ দুই দলের ৫ ম্যাচের সিরিজে তিনি তিনটি সেঞ্চুরিসহ সংগ্রহ করেছেন ৬৮৭রান।

এদিকে রুটের টেস্ট গড় ৫০ এর নীচে হলেও এই খেলায় নিজেকে ভয়ঙ্কর খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার রয়েছে ১৬টি টেস্ট সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ডের ধুকতে থাকা টপ অর্ডারকে সহায়তার জন্য ব্যাটিংয়ের তৃতীয় নম্বর অবস্থানে ফিরেছেন ইয়র্কশায়ারের এই ক্রিকেট তারকা।

গত বছর ভারতের বিপক্ষে সিরিজে নিজের অবস্থান থেকে রুটকে সরিয়ে দেবার পর থেকে মঈন আলী, জনি বারিস্টো ও জো ডেনলিকে ওই জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু কেউ স্বস্তিতে ছিলেন না। এখন রুট ফের সেই জায়গায় ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই অবস্থানে ব্যাটিং করেই টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা ২৫৪ রান করেছেন তিনি।

ইংলিশ চাতুরি বনাম অস্ট্রেলিয় গতি: পেসার জোফরা আর্চারকে নতুন অস্ত্র হিসেবে পেয়েছে ইংল্যান্ড। তবে এ্যাশেজে তাদের পেস আক্রমনের নেতৃত্বে থাকবেন ওপেনিং বোলার জেমস এন্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রড। এই দুইজন এ পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে এক হাজারেরও বেশী টেস্ট উইকেট শিকার করেছেন। খাঁটি গতিতে ঘাটতি থাকলেও ইংলিশ কন্ডিশনে সুইং দিয়ে ব্যাটসম্যানদের বোকা বানাতে সিদ্ধহস্ত তারা।

অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে ফাস্ট বোলিংয়ের তেজ, যা দিয়ে ইংলিশ টপ অর্ডারে ধ্বস নামানোর ক্ষমতা তাদের রয়েছে। ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টিভ হার্মিনসন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া দলে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জেমস প্যাটিনসন ও জস হ্যাজেলউডের মত এমন সব বোলার রয়েছে, যারা আপনাকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে। তবে তারা যদি সঠিকভাবে এর প্রয়োগ ঘটাতে না পারেন তাহলে ওভারে ছয় রানও দিতে পার।ে কিন্তু ব্রড ও এন্ডারসনের ওভার তেকে ছয় রান নেয়া সহজ নয়। প্রতিপক্ষের তুলনায় গতিতে পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের কাজকে নিয়ন্ত্রন করার সামর্থ্য তাদের আছে।’

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *