বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ, ছবিঃসংগৃহীত।

কাল থেকে শুরু হচ্ছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ছয় মাস পর বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ দিয়ে আবারো দেশে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট ফিরতে যাচ্ছে।

আগামীকাল থেকে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন দলকে নিয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পথচলা শুরু হচ্ছে। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে মাহমুদুল্লাহ একাদশ ও নাজমুল একাদশ।

ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে । বিসিবি ফেসবুক পেইজে ম্যাচ উপভোগ করা যাবে। বিসিবির ফেসবুকে সরাসরি ম্যাচগুলো দেখা যাবে।

মহামারীর কারনে গত মার্চ থেকে দেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে পড়ে। ক্রিকেটকে মাঠে ফেরাতে এটি বিসিবির ধারাবাহিক উদ্যোগের একটি অংশ।

টুর্নামেন্টটি বর্তমান পরিস্থিতিতে শীর্ষস্থানীয় এবং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এটি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের ভালো সুযোগ দিবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিন দলকে নেতৃত্ব দিবেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তামিম ইকবাল খান।

তিনটি দলই একে অপরের বিপক্ষে দু’বার করে খেলবে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দু’দল আগামী ২৩ অক্টোবর ফাইনালে লড়বে। সবগুলো ম্যাচই মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ও দিবা-রাত্রিতে অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বমোট ১শ জন, খেলোয়াড়-সাপোর্ট স্টাফ-ম্যাচ কর্মকর্তা এবং কর্মীরা টুর্নামেন্টের সাথে জড়িত থাকবেন। তাদের সকলেরই করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের সকলেরই করোনা নেগেটিভ আসে।

কোভিড-১৯ এর স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য, তাদের সকলকে ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের জন্য জৈব-সুরক্ষা পরিবেশে রাখা হয়েছে।

এই টুর্নামেন্টেটি লিস্ট ‘এ’র মর্যাদা পাচ্ছে না, এমনকি প্রতি বছরই এমন আসর আয়োজন করবে না বিসিবি।

বিসিবি প্রধান নির্বাহি নিজাম উদ্দিন চৌধুরি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ম্যাচ অনুশীলন করার সুযোগ দেয়ার জন্য এই টুর্নামেন্ট এবং আমরা প্রতিবছর এটি আয়োজন করবো না। আইসিসির তালিকার এটির মর্যাদার জন্য আমরা আবেদন করিনি।’

যেহেতু এটি লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট নয়, তাই খেলোয়াড়দের প্রোফাইলে এসব ম্যাচের পরিসংখ্যান যুক্ত হবে না। তারপরও এই টুর্নামেন্ট সকলে খুবই গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে।

টুর্নামেন্টের এক দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমরা টুর্নামেন্ট থেকে অনেক কিছুই অর্জন করতে পারি। তবে নতুন খেলোয়াড়দের জন্য এটি বড় প্লাটফর্ম।’

এই টুর্নামেন্টে অনেক তরুন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। বিশেষভাবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের, যারা সিনিয়র ও তাদের আর্দশদের সাথে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য তানজিদ হাসান তামিম বলেন, ‘টুর্নামেন্টের মাধ্যমে সিনিয়দের সাথে ড্রেসিংরুমে ভাগাভাগি করার সুযোগ পাবো। তামিম ইকবাল আমার আদর্শ, তার সাথে খেলাটা আমার জন্য বিশেষ কিছু।’

তামিম বলেন, টুর্নামেন্টে মর্যাদার না থাকলেও খেলোয়াড়রা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, এটি সবার জন্য একটি ভাল সুযোগ। কিছু খেলোয়াড়দের জন্য দারুন সুযোগ, আন্তর্জাতিক এবং অন্যদের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করার একটি টুর্নামেন্ট। কিছু খেলোয়াড়দের জন্য এটি জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাটক করার প্লাটফর্ম।

আমরা বাংলাদেশের জন্য যেভাবে খেলি, সেভাবেই আমরা এখানেও সেভাবে খেলবো।’

বিসিবির প্রধান নির্বাহি নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চ্যাম্পিয়ন্স এবং রানার্স-আপ দলের পাশাপাশি ম্যান-অফ-ম্যাচ এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়দের জন্যও আকর্ষণীয় পুরষ্কার থাকবে।

অন্য একটি দলের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেন, আমরা ট্রফির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। কারন এটি মর্যাদাপূর্ণ লড়াই।
তিনি আরও যোগ করে বলেন, এই টুর্নামেন্টটি আয়োজন করে বিসিবি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা আশা করি, ট্রফি জিততে পারবো। আমরা একটি ভালো দল পেয়েছি এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল পেয়েছি।

দীর্ঘদিন ধরেই আমরা ক্রিকেটের বাইরে আছি। তাই এ ধরনের প্রতিযোগিতা আমাদের জন্য ভালো হবে।’

টুর্নামেন্টের আরেক দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, টুর্নামেন্টে নিয়ে তারা খুবই উচ্ছসিত ও শিরোপা জয়ই প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দলে মুশফিকুর রহিমের মত খেলোয়াড় পেয়েছি এবং আমরা জানি, সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আশা করি, আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারবো।’

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *