চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট,ছবি:সংগৃহীত।

কোর পেস বোলিং গ্রুপ তৈরীতে গুরুত্ব ল্যাঙ্গেভেল্টের

ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০১৯  : সব ফর্মেটের ক্রিকেটে দেশের বাইরে ভাল করতে পারে এমন গভীরতা সম্পন্ন পেস বোলিং গ্রুপ তৈরী করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নবনিযুক্ত বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট। তার মতে উপমহাদেশের দল যে কোন কন্ডিশনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যদি তাদের একটি ‘কোর ফাস্ট বোলিং গ্রুপ’ থাকে।

ভারতীয় ফাস্ট বোলারদের উদাহারণ টেনে এনে বলেন, ভারত কোর ফাস্ট বোলিং গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ও ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ম্যাচে জয় পেতে শুরু করেছে। সব কন্ডিশনে একটি অদম্য দল তৈরীর জন্য বাংলাদেশেও কোর ফাস্ট বোলিং গ্রুপ তৈরীতে মনোযোগ দিবেন বলে জানান নবনিযুক্ত এই বোলিং কোচ।

আজ মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ল্যাঙ্গেভেল্ট বলেন, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন বল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এমন কন্ডিশনে টেস্টেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন টেস্ট ম্যাচটি আমার জন্য হবে পেসার খুঁজে বের করার মিশন। যারা বাংলাদেশের বাইরেও ভাল বল করতে পারে।

আপনি যদি ভারতের বর্তমান দলটির দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন তারা এই ধরনের পেসার পেয়ে গেছে। আর তারা দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় দলকে জয়ী করছে। তাই আমাদেরও পেসার খুঁজে বের করতে হবে এবং তাদেরকে খেলতে দিতে হবে, তহালেই আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব।’

বাংলাদেশের পেসারদের একটি সমস্যা রয়েছে। তারা বাউন্স করার মত যথেষ্ট লম্বা নয়। তবে এটিরও সমাধান রয়েছে ল্যাঙ্গেভেল্টের। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা লম্বা না হলে তাদের দিয়ে এমন বোলিং করানো কঠিন। তবে তারা যদি কোন রকম ইনজুরিগ্রস্ত না হয় তাহলে বোলিং করানো যাবে। তবে সেটি হচ্ছে সুইং বোলিং। তারা যাতে সুইং বল করতে পারে সে জন্য আমি সহায়তা করব। কোন ছেলে যদি সুইং বল না করেই ধারাবাহিক হতে চায়, তাহলে লাইন এবং লেন্থ ঠিক রেখে তাদের আক্রমণাত্বক হতে হবে। এটিই হচ্ছে আসল।’

কিংবদন্তী পেসার কোর্টনি ওয়ালসের পরিবর্তিত হিসেবে বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পাওয়া ল্যাঙ্গেভেল্ট বলেন, তার দর্শন ওয়ালসের চেয়ে আলাদা। তিনি বলেন, ‘ওয়ালস একজন কিংবদন্তী বোলার ছিলেন। তবে কোচিংয়ের ক্ষেত্রে আমার দর্শন আলাদা। আমার মনে রয়েছে আলাদা পরিকল্পনা আছে। মেধার ভিত্তিতে আমি ক্রমে সবাইকে সহায়তা করব।’

ইয়র্কার ও বাউন্সারে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য স্বল্প সময়ের কোন পরিকল্পনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ল্যাঙ্গেভেল্ট বলেন, তার বিশ্বাস ভিন্ন পন্থায় তিনি তাদের সহায়তা করতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘বোলিং কোচ হিসেবে আমি এখনো বিশ্বাস করি আমাকে বল দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। যদি আপনি চাপকে মোকাবেলা করতে পারেন। এভাবেই আপনি চেষ্টা করতে পারেন। আপনাকে অনুশীলনে বল করতে হবে, কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলেই আপনি ইয়র্কার বল করতে পারবেন। তবে আমি সব সময় বলে থাকি, আপনি যদি পেস বোলিংয়ে পরিবর্তন ঘটাতে চান, তাহলে এর সমর্থনে ইয়র্কার অথবা বাউন্সার মারার সক্ষমতা থাকতে হবে।’

চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফদের আন্তরিক সহযোগিতা নিয়ে তিনি নিজের আমলে দলকে স্থিতিশীলতা দিতে পারবেন। এখানে তিনি প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি এবং ফিল্ডিং কোচ রেয়ান কুকের সঙ্গে কাজ করবেন।

সহযোগী স্টাফদের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকানদের আধিক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে কাজ করতে সহজ হবে।

ল্যাঙ্গেভেল্ট বলেন, ‘এটি কাজের ক্ষেত্রেকে সহজ করে দিবে। আমাদেরকে রাসেলের সঙ্গে কাজ করতে হবে। তার মধ্যে মানুষের সঙ্গে মিসে যাবার দক্ষতা রয়েছে। আমার মনে হয় রাসেল, আমি, ম্যাকেঞ্জি এবং রেয়ান কুক মিলে উপমহাদেশে অসাধারণ সময় কাটাতে পারব।’

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *