মাশরাফি বিন মর্তুজা ,ছবিঃসংগৃহীত।

জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিবেন মাশরাফি

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি ২০২০  : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চাইলে এখনই জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিবেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। আজ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের এলিমিনেটর ম্যাচ শেষে এমনটাই বললেন ম্যাশ। তার দল ঢাকা প্লাটুন এলিমিনেটর ম্যাচে ৭ উইকেটে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের কাছে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন মাশরাফি। দলের পারফরমেন্স, বিসিবির গতকালের বোর্ড মিটিং ও তার ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেন মাশরাফি। এরমধ্যে ছিলো ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে বক্তব্য।

অবসর, দলে সুযোগ পাওয়া না পাওয়া, কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ- বর্তমানে এসব শব্দগুলোই বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির চারপাশে। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে গেল ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে শুরু হয়েছে অবসর নিয়ে শোরগোল। হয়নি অবসর। বিশ্বকাপের পর শ্রীলংকা সফরের দলেও অধিনায়ক হিসেবে সুযোগ পান মাশরাফি। কিন্তু শেষ মূর্হুতে ইনজুরির কারনে দলের সাথে শ্রীলংকায় যাননি তিনি।

তবে সম্প্রতি অবসরের চিন্তা থেকে সড়ে আসেন মাশরাফি। তবে তাকে দলে নেয়া হবে কি-না সেটিই এখন প্রশ্ন। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের ৮ ম্যাচে ১ উইকেট নেয়ার পর দলে সুযোগ পাবার চিন্তা করি না। এটা নির্বাচকরা ভালো বলতে পারবেন।’

আর জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমার কাছে তো মনে হয় না যে, জাতীয় দলে আগে অধিনায়ক বাছাই হবে, এরপর দল গঠন করা হবে। আমি তো আগের দিন ক্লিয়ার ম্যাসেজ দিয়েই দিয়েছি যে নির্বাচকরা যা ভাববেন, তাই হবে। বাংলাদেশে তো সবই হয়। নির্বাচকরা যা ভাববে তাই করবে। বিসিবি চাইলে অধিনায়কত্ব এখনই ছেড়ে দেব, কোন সমস্যা নেই।’

‘বঙ্গবন্ধু’ বিপিএল দিয়ে দীর্ঘদিন পর আবারো ২২ গজে ফিরেন মাশরাফি। ১৩ ইনিংসে ৪৩ ওভারে ৩২৮ রান দিয়ে ৮ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

নিজেকে মেলে ধরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন ম্যাশ। কিন্তু এবারের আসরে তার দল ঢাকা চতুর্থস্থান নিয়ে শেষ করলো। এই মাশরাফি অধিনায়ক হিসেবে চারবার চ্যাম্পিয়নের স্বাদ নিয়েছে। কিন্তু তারপরও নিজেকে সেরা অধিনায়ক ভাবতে রাজি নন ম্যাশ। আর সব সময়ই যে সাফল্য আসবে তাও না বলেন তিনি। পুরো আসরে দলের মিডল-অর্ডার নিয়ে সমস্যায় ভুগেছেন বলেও জানান ম্যাশ, ‘আমি সেরা অধিনায়ক কীভাবে!

সাকসেসফুলতো আর আপনি সব সময় হবেন না। আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে আমাদের মিডল অর্ডার, আমরা পুরো আসরে স্ট্রাগল করেছি। তেমন অভিজ্ঞতা নেই আমাদের মিডল অর্ডারে। আপনি হয়তো বলতে পারেন মোমিনুল, বিজয় আছে। বিজয় হয়তো ইন অ্যান্ড আউট ছিল। মোমিনুল শেষ দিকে খুব ভালো খেলছিল। কিন্তুই অন্যদিক থেকে আমরা সাপোর্টটা পাইনি। টি-২০ তো স্কোরবোর্ডে রান থাকতেই হয় সবসময়। এটা তো ব্যাটিং গেম। আমাদের এখানে তো প্রথমে যারা ব্যাটিং করে তারা নরমালি একটা চাপে থাকেই। উইকেট আরও আস্তে আস্তে ভালো হয়। ওভারঅল যদি বলেন, আসরের শেষ দুই ম্যাচে আমরা পিছিয়ে গেছি। খুলনার ম্যাচের আগে আমরা বেশ ভালো অবস্থানে ছিলাম। আমাদের বিদেশি যারা ইনফর্ম ছিল ওরাও চলে গেছে। আবার নতুন করে আনা। খুব কম সময়ের মধ্যে মানিয়ে নেয়া খুব কঠিন ছিল। শেষ দুই ম্যাচে আমরা টিম হিসেবে খেলতে পারিনি।’

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *