বিরাট কোহলি ,ছবি: সংগৃহীত।

টেস্টের ভাবিষ্যৎ কখনোই গোলাপী বলে হবে না : কোহলি

কোলকাতা, ২১ নভেম্বর, ২০১৯  : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দিাবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ নিয়ে যখন জনগণ এমনকি আয়োজকদের মধ্যে চলছে বাড়তি উত্তেজনা, তখনই স্বাগতিক অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলেছেন, এখানে কেউ টেস্ট ক্রিকেটের খাঁটি ভক্ত নন। বরং তারা এটিকে নিচ্ছে শুধু মাত্র মজা করার অনুষঙ্গ হিসেবে।

তার মতে গোলাপী বলের ক্রিকেট কখনোই ভবিষ্যতের টেস্ট হয়ে উঠতে পারে না। যদিও লংগার ভার্সনের ক্রিকেটের প্রতি মানুষের আকর্ষণ দিনে দিনে কমে যাচ্ছে।

গোলাপী বলের প্রথম টেস্টকে সামনে রেখে কোহলি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমি মনে করিনা টেস্টের ভবিষ্যৎ গোলাপী বলের ক্রিকেটে নিহিত রয়েছে।’ গোলাপী বলে দিবা-রাত্রির প্রথম এই টেস্টে বাংলাদেশের মোকাবেলা করবে ভারত। বাংলাদেশের জন্যও এটি হবে প্রথম গোলাপী বলে দিবা-রাত্রির টেস্ট।

কোহলি বলেন,‘ আমি মনে করিনা ভবিষ্যতে গোলাপী বলেই টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এটি আমার ব্যক্তিগত অভিমত। কারণ টেস্ট ক্রিকেট জনপ্রিয় করার জন্য এটি একমাত্র উপায় হতে পারে না। কারণ এ সময় সকালে প্রথম সেশনে খেলা নিয়ে আপনার মধ্যে থাকা নার্ভাসনেস উবে যাবে।

তবে হ্যাঁ এর মাধ্যমে আপনি টেস্ট ক্রিকেটের রোমঞ্চ নিয়ে আসতে পারবেন। কিন্তু তাতে টেস্ট ক্রিকেটের একেবারেই খাঁটি বিষয়টি দিতে পারবেন না। পারবেন শুধু মানুষকে আনন্দ দিতে। আপনি জানেন যে টেস্ট ক্রিকেটের আসল মজাটি হচ্ছে একজন ব্যাটসম্যান গোটা সেশন জুড়ে টিকে থাকার চেস্ট করবে, আর বোলারের চেস্টা থাকবে তাকে আউট করে ফিরিয়ে দিতে। মানুষ যদি ওই মজাটিই না পায় তাহলে সেটি অবশ্যই খারাপ হবে। কারণ সেটি দেখতেই তারা টেস্ট ক্রিকেট উপভোগ করতে আসে। আমি যদি টেস্ট ক্রিকেট পছন্দ না করি, তাহলে আপনি জোর করে সেটিকে পছন্দ করাতে পারবেন না।’

ব্যবসায়িক গ্রহযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য ক্রিকেট আয়োজকরা টেস্ট ক্রিকেটকে নতুন আঙ্গিকে সাজাতে চাইছে। ওই কারণেই গোলাপী বলে দিবা-রাত্রির টেস্ট ক্রিকেট প্রচলনে উঠে পড়ে লেগেছেন তারা। এর মাধ্যমে মাঠে দর্শক উপস্থিতি বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। কারণ ফ্লাড লাইটের আলোতে ম্যাচটি আরো বেশী আনন্দ দিতে সক্ষম হবে।

বিসিসিআই’র সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির অধীনে ভারত দিবা-রাত্রির টেস্ট ক্রিকেট আয়োজনের ধারনাকে স্বাগত জানালেও আগে একেবারেই এর বিপরীতে অবস্থান নিয়েছিল তারা। ২০১৮-১৯ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরকালে ভারতকে এডিলেডে গোলাপী বলে খেলার আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল। কিন্তু অনুশীলনের ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে এতে সম্মত হয়নি ভারত।

কিন্তু এখন ভারত গোলাপী বলে টেস্ট ম্যাচ খেলার উদ্যোগ নেয়ায় সবার বদ্ধমুল ধারনা জন্মেছে যে ভবিষ্যতে গোলাপী বলই টেস্টে বড় আসন গড়তে যাচ্ছে।

ভারতীয় অধিনায়ক বলেন,‘ কেউ যদি ব্যাট বলের অসাধারণ এই সেশন থেকে অনুপ্রেরনা এবং এই লড়াই দেখে রোমাঞ্চ খুঁজে পায় তাহলে আমি বলব তারাই যেন এই ক্রিকেটটি দেখার জন্য মাঠে আসেন। কারণ তারা বুঝতে পারবে আসলে কি ঘটতে যাচ্ছে। তবে হ্যাঁ এর দ্বারা ক্রিকেট বিশ্বে নব জাগরণ সৃস্টি করতে পারাটা দারুন ব্যাপার। এখানকার টেস্টের (কোলকাতা) প্রথম তিন-চার দিনের টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। এটি দারুন ব্যাপার।

কিন্তু আমি রাহুল ভাইয়ের (রাহুল দ্রাবিড়) সাম্প্রতিক উক্তির রেস ধরে বলতে চাই, আমাদের যদি টেস্ট ক্যালেন্ডার থাকে, তাহলে এই সিরিজ ও টেস্টকে কোথায় জায়গা দেয়া হবে। এটির জন্য অবশ্যই অনেক পদ্ধতির প্রয়োজন হবে, মানুষকেও আগে ভাগে এর সম্পর্কে অবগত হতে হবে যাতে তারা ম্যাচ নিয়ে পুর্বেই নিজের পরিকল্পনা সাজাতে পারে। এটি এমন কোন খেলা নয় যে আপনি জানতে পারছেন না কখন কোথায় এটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’

এই খেলা কিভাবে আরো উপভোগ্য করা যায় সেটি নিয়ে নিজের একটি রেসিপিও দিয়েছেন কোহলি। তিনি বলেন,‘ যদি এর একটি ক্যালেন্ডার ও কেন্দ্রবিন্দু থাকে তাহলে মানুষ অবশ্যই একটি ধারনা রাখতে পারবে, তখন সেটি দেখার বিষয়ে আগে থেকেই নিজের পরিকল্পনা সাজাতে পারবে। আগে থেকেই যদি জানতে না পারে তাহলে মানুষ নিশ্চয় তার কর্মস্থল ছেড়ে হুট করে এই খেলা দেখতে আসতে পারবে না। তাদেরকে আগেভাগেই পরিকল্পনা করতে হবে। যেমনটি আপনি নিজের জীবন নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজিয়ে থাকেন। সুতরাং আমার মনে হয় এ রকম কিছু একটা করা যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত ভাবে নিয়মিত ভাবে এটি আয়োজনের পক্ষে নই আমি। ’

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *