দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল , ছবিঃ টুইটার।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে দুর্দান্ত এক জয়ের স্বাদ পাইয়ে দিলেন লুঙ্গি

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ৭ রান। হাতে ছিলো ৪ উইকেট। কিন্তু পেসার লুঙ্গি এনগিডি শেষ ওভারে ৫ রান দিয়ে ৩ উইকেটের (একটি রান আউট) পতন ঘটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দুর্দান্ত এক জয়ের স্বাদ পাইয়ে দিলেন। উত্তেজনাপূর্ণ প্রথম টি-২০তে প্রোটিয়ারা ১ রানে হারায় ইংল্যান্ডকে। টি-২০ ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম ১ রানে ম্যাচ হারলো ওয়ানডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ম্যাচ সেরা হয়েছেন এনগিডি।

গতরাতে ইস্ট লন্ডনে টস জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নেয় ইংল্যান্ড। ব্যাট হাতে ঝড়ো শুরু করেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার তেম্বা বাভুমা ও অধিনায়ক কুইন্টন ডি কক। প্রথম ৪ ওভারেই ৪৮ রান যোগ করেন তাার। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ১৫ বলে ৩১ রান করে ফিরেন উইকেটরক্ষক ডি কক। ইনিংসে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন ডি কক।

এরপর ভ্যান ডার ডুসেনকে নিয়ে ৪০ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় সংগ্রহের পথ তৈরি করেন বাভুমা। ডুসেন-বাভুমা ১০ ওভারেই দলের স্কোর শতরান স্পর্শ করান। ধীরলয়ে খেলা ডুসেন ১১তম ওভারে আউট হন। ২৬ বলে ৩১ রান করেন তিনি।

মারমুখী মেজাজে থাকা বাভুমা হাফ-সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ২৭ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৪৩ রানে থামেন। দুই ওপেনারের উড়ন্ত সূচনাটা পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা ধরে রাখতে না পারায় ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৭৭ রানের সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তিন ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলার, জন-জন স্মুটস ও আন্দিলা ফেলুকুওয়াও ছোট-ছোট ইনিংস খেলে ফিরেন। তিন জনের কেউই শেষদিকে, দ্রæত রান তুলতে পারেননি। মিলার ১৪ বলে ১৬, স্মুটস ২০ বলে ২০ ও ফেলুকুওয়াও ১৫ বলে ১৮ রান করে ফিরেন। ইংল্যান্ডের পেসার ক্রিস জর্ডান ২৮ রানে ২ উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৭৮ রানের লক্ষ্যে ভালো শুরু পায়নি ইংল্যান্ড। দলীয় ১৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেন উইকেটরক্ষক জশ বাটলার। ১০ বলে ৩টি চারে ১৫ রান করে ফিরেন। প্রায় এক বছর পর মাঠ ফিরে বাটলারের উইকেট নেন পেসার ডেল স্টেইন। এই উইকেট শিকারের মাধ্যমে স্পিনার ইমরান তাহিরকে পেছনে ফেলে টি-২০তে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হন স্টেইন। ৪৫ ম্যাচে ৬২ উইকেট স্টেইনের। ৩৫ ম্যাচে ৬১ উইকেট তাহিরের।

তিন নম্বরে নামা জনি বেয়ারস্টোও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। ১৯ বলে ৩টি চারে ২৩ রান করেন তিনি। বেয়ারস্টোর সাথে ৩৯ বলে ৭২ রানর জুটি গড়েন আরেক ওপেনার জেসন রয়। এরমধ্যে রয়েরই অবদান ছিলো ২০ বলে ৪৯। তবে ২২ বলে টি-২০ ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রয়। মারমুখী মেজাজে থাকা রয়কে বিদায় দেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার রেজা হেনড্রিকস। ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৮ বলে ৭০ রান করেন তিনি।

১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ১৩২ রানে রয় ফিরলেও, লড়াইয়ে ছিলো ইংল্যান্ড। মাঝে জো ডেনলি ৩ ও বেন স্টোকস ৪ রানে ফিরলেও, ইংল্যান্ডের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন অধিনায়ক ইয়োইন মরগান। ১৯তম ওভারে হেনড্রিকসের তৃতীয় থেকে পঞ্চম বলে ৪, ৪ ও ৬ রান নিয়ে ৩২ বলে টি-২০ ক্যারিয়ারে ১২তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। সেই সাথে ২ ওভারে ২৩ রান থেকে জয়ের সমীকরনটা শেষ ওভারে ৭ রানে নামিয়ে আনেন মরগান। ঐ ওভারের শেষ বলে মরগানের বিদায় নিশ্চিত করেন হেনড্রিকস। ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৪ বলে ৫২ রান করেন মরগান।

এরপর শেষ ওভারের প্রথম বলে ২ রান দেন লুঙ্গি। দ্বিতীয় বলে ২ রান করা টম কারানকে বিদায় দেন তিনি। তৃতীয় বলে কোন রান না হলেও, চতুর্থ বলে আবারো ২ রান পায় ইংল্যান্ড। এতে শেষ ২ বলে ৩ রান দরকার পড়ে ইংলিশদের। পঞ্চম বলে ৫ রান করা মঈন আলিকে তুলে নেন লুঙ্গি। তাই শেষ বলে জিততে ৩ রান প্রয়োজন হয় ইংল্যান্ডের। কিন্তু শেষ বলে ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হন আদিল রশিদ। ফলে ১ রান ব্যবধান রেখে ইংল্যান্ডকে নিশ্চিত জয় থেকে বঞ্চিত করেন লুঙ্গি। ৪ ওভারে ৩০ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন লুঙ্গি। শেষ ওভারে কারান ও মঈনকে ছাড়াও আগে স্টোকসের উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন লঙ্গি।

আগামীকাল ডারবানে হবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

দক্ষিণ আফ্রিকা- ১৭৭/৮(২০ ওভার , রান রেট-৮.৮৫)
ব্যাটিং :
বাভুমা -৪৩ (২৭ বল ,স্ট্রাইক রেট -১৫৯.২৫)
ডি কক -৩১ (১৫ বল ,স্ট্রাইক রেট -২০৬.৬৬)
ডুসেন -৩১ (২৬ বল ,স্ট্রাইক রেট -১১৯.২৩)

বোলিং:
জর্ডান -৩-০-২৮-২
আলী-৪-০-২২-১

ইংল্যান্ড-১৭৬/৯ (২০ ওভার ,রান রেট -৮.৮০)
ব্যাটিং :
রয় -৭০ (৩৮ বল ,স্ট্রাইক রেট -১৮৪.২১)
মরগান -৫২ (৩৪ বল ,স্ট্রাইক রেট -১৫২.৯৪)
বেয়ারস্টো -২৩ (১৯ বল ,স্ট্রাইক রেট -১২১.০৫)

বোলিং:
লুঙ্গি -৪-০-৩০-৩
ফেলুকুওয়াও-৪-০-৩২-২
হেনড্রিকস-৩-০-৩৩-২

টস: ইংল্যান্ড , ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত।
ফলাফল :দক্ষিণ আফ্রিকা ১ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা :লুঙ্গি এনগিডি (দক্ষিণ আফ্রিকা )

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *