অস্ট্রেলিয়া দলের উল্লাস , ছবিঃ সংগৃহীত।

দর্শক শূন্য স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) দর্শক শূন্য স্টেডিয়ামে হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। গ্যালারি শূন্য স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বোলারদের নৈপুণ্যে নিউজিল্যান্ডকে ৭১ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অসিরা।

বিশ্বজুড়ে বিরাজ করেছে করোনাভাইরাস আতঙ্ক। তা থেকে মুক্তি পেতে সবধরনের ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে। জনসমাগম ঠেকাতে ক্রীড়াঙ্গনের মাঠে দর্শকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ করা হয়েছে। সেদিক থেকে বাদ পড়েনি অস্ট্রেলিয়াও। আজ থেকে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হয়েছে রূদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে।

তবে এসসিজিতে ভিক্টর ট্রাম্পার স্ট্যান্ডের বসিয়ে রাখা হয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক দর্শক স্টিফেন হারল্ড গাস্কোইগ্নের মূর্তি। অর্থাৎ, পুরো স্টেডিয়ামে মূর্তিই হয়ে প্রথম ওয়ানডে দেখলেন গাস্কোইগ্নে।

এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট হাতে উড়ন্ত সূচনা করেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। ২৪ ওভারে দলকে ১২৪ রান এনে দেন তারা। ২৫তম ওভারের প্রথম বলে নিউজিল্যান্ডের পেসার লোকি ফার্গুসনের বলে আউট হন ওয়ার্নার। ৮৮ বলে ৯টি চারে ৬৭ রান করেন তিনি।

কিছুক্ষণ বাদে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ফিঞ্চও। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৫ বলে ৬০ রান করেন অসি অধিনায়ক।

অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে বিদায় করে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। তাতে সফলই হন তারা। অস্ট্রেলিয়ার পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে এক প্রান্ত আগলে লড়াকু ইনিংস খেলেছেন মার্নাস লাবুশেন। পাঁচ নম্বরে নামা লাবুশেন ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হওয়ার আগে ৫২ বলে ৫৬ রান করেন।

ফতার ছোট্ট এবং কার্যকর ইনিংসের কল্যাণে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৮ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় অস্ট্রেলিয়া। যেখানে দুই ওপেনারের উড়ন্ত সূচনায় রানের পাহাড় গড়ার পথ ছিলো অসিদের। নিউজিল্যান্ডের স্পিনার ইশ সোধি ৩টি, ফার্গুসন-স্যান্টনার ২টি করে উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ২৫৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালো শুরু করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। দলীয় ২৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। ১০ রান করে ফিরেন ওপেনার হেনরি নিকোলস। এরপর দলকে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। কিন্তু জুটিতে ৩৬ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি তারা। উইলিয়ামসন ১৯ রান করে বিদায় নেন।

দলীয় ৬৪ রানে অধিনায়কের বিদায়ের মিনি ধস নামে নিউজিল্যান্ড ইনিংসে। ৯৬ রানে পৌছাতে আরও ৩ উইকেট হারায় তারা। গাপটিল ৪০, রস টেইলর ৪ ও জেমস নিশাম ৮ রান করে ফিরেন।

এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামাল দেন টম লাথাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। কিন্তু দু’জনের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। লাথাম ৩৮ ও গ্র্যান্ডহোম ২৫ রান করেন। এই দু’ব্যাটসম্যানকে শিকারের পর নিউজিল্যান্ডের টেল-এন্ডারকে গুটিয়ে দিতে সময় নেয়নি অস্ট্রেলিয়া। ৪১ ওভারে ১৮৭ রানেই শেষ হয় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স-মিচেল মার্শ ৩টি করে, জশ হ্যাজেলউড-এডাম জাম্পা ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল মার্শ।

আগামী ১৫ মার্চ এই ভেন্যুতেই হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

অস্ট্রেলিয়া -২৫৮/৭ (৫০ ওভার ,রান রেট -৫.১৬)
ব্যাটিং:
ওয়ার্নার -৬৭(৮৮ বল )
ফিঞ্চ -৬০ (৭৫ বল )
লাবুশেন -৫৬ (৫২ বল )
বোলিং :
সোধি -৮-০-৫১-৩
সান্টনার -১০-০-৩৪-২

নিউজিল্যান্ড -১৮৭/১০ (৪১ ওভার , রান রেট -৪.৫৬)
ব্যাটিং :
গাপটিল -৪০ (৭৩ বল )
লাথাম -৩৮ (৪০ বল )
গ্র্যান্ডহোম-২৫ (২৬ বল )
বোলিং :
কামিন্স -৮-২-২৫-৩
মার্শ -৭-০-২৯-৩

টস : অস্ট্রেলিয়া , ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত।
ফলাফল : অস্ট্রেলিয়া ৭১ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : মিচেল মার্শ (অস্ট্রেলিয়া )

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *