ইংল্যান্ড -নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড

দেশের মাটিতে সিরিজ জয়ের স্বাদ নিতে চায় নিউজিল্যান্ড

অকল্যান্ড, ৯ নভেম্বর, ২০১৯  : প্রথম চার ম্যাচ শেষে ২-২ সমতা থাকায় পাঁচ টি-২০ সিরিজে কাল অঘোষিত ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড ও সফরকারী ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড জিতলে তা হবে ‘প্রথম’ সিরিজ জয়ের স্বাদ। কারণ দেশের মাটিতে টি-২০ ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সর্বশেষ তিন সিরিজেই জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। এ ম্যাচ জিতে টানা চতুর্থ সিরিজ জয়ের স্বাদ নিতে মরিয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সর্বশেষ তিন সিরিজ জয়ের রেকর্ড আছে নিউজিল্যান্ডেরও। অকল্যান্ডে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোর ৭টায় শুরু হওয়া সিরিজের শেষ লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের মধ্যকার লড়াই হবে তীব্র প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ।

সিরিজ শুরুর আগে ফেভারিটের তকমাটা কারো পক্ষেই ছিলো না। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বশেষ তিন সিরিজেই জয় নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের। ২০১৮ সালের অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হবার পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনটি সিরিজে অংশ নেয় নিউজিল্যান্ড। সবক’টিই জিতে তারা। দেশের মাটিতে শ্রীলংকাকে এক ম্যাচের সিরিজে, ভারতকে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এবং শ্রীলংকার মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় কিউইরা। তাই ছোট ফরম্যাটে সেরা অবস্থায় থেকেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্ব শুরু করে কেন উইলিয়ামসনবিহীন নিউজিল্যান্ড। ইনজুরির কারণে উইলিয়ামসন খেলতে না পারায় এ সিরিজে স্বাগতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিম সাউদি।

নিউজিল্যান্ডের মত সাফল্যকে সঙ্গী করে সিরিজ শুরু করে ইংল্যান্ডও। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে দেশের মাটিতে ভারতের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারে ইংলিশরা। এরপর শ্রীলংকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ জিতে ইংল্যান্ড। শ্রীলংকার মাটিতে এক ম্যাচের ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয় ইংলিশরা। গত মে’তে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচের সিরিজ জিতে ইংল্যান্ড। ঐ সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আবারো কোন টি-২০ সিরিজে অংশ নেয় ইংলিশরা। মাঝে গত জুলাইয়ে দেশের মাটিতে হয়ে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে ইয়োইন মরগানের দল।

তাই সাফল্যকে সঙ্গী করে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির টি-২০ সিরিজ শুরু করে নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড। শুরুটা চমৎকারই ছিলো ইংলিশদের। ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের প্রথম ম্যাচ ৭ উইকেটে জিতেছিলো ইংলিশরা। হার দিয়ে সিরিজ শুরু হলেও ঘুড়ে দাঁড়াতে সময় নেয়নি নিউজিল্যান্ড।

ওয়েলিংটনে দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটসম্যান-বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ২১ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় নিউজিল্যান্ড। আর নেলসনে তৃতীয় ম্যাচ ১৪ রানে জিতে সিরিজে প্রথমবারের মত লিড নেয় স্বাগতিকরা। ফলে সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় তারা। এরপর চতুর্থ ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু নেপিয়ারে দেখা যায় অন্য রুপের ইংল্যান্ডকে। সিরিজ বাঁচানোর মিশনে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেন দুই বাঁ-হাতি ডেভিড মালান ও অধিনায়ক ইয়োইন মরগান।

তৃতীয় উইকেটে মাত্র ৭৬ বল মোকাবেলা করে ১৮২ রান যোগ করেন মালান-মরগান জুটি। টি-২০ ক্রিকেটে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েন তারা। মালান ৫১ বলে অপরাজিত ১০৩ ও মরগান ৪১ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলেন। ফলে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৪১ রানের পাহাড় গড়ে ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত মালান-মরগানের রেকর্ডের ম্যাচে ৭৬ রানে জয় পায় ইংল্যান্ড। সাথে সিরিজেও ২-২ সমতা আনে তারা। তাই পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি এখন সিরিজ নির্ধারণী টি-২০।

সিরিজ জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছেন না নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টিম সাউদি, ‘পুরো সিরিজেই দল ভালো খেলেছে। পিছিয়ে পড়েও সিরিজে সমতা আনতে সক্ষম হয়েছি আমরা। পরবর্তীতে সিরিজে লিড নিতে পারি। ইংল্যান্ডও ভালো খেলেছে। দু’দলের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে পঞ্চম ম্যাচটি এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা খেলতে নামবো। বোলাররা নিজেদের ভুলগুলো শুধরে সেরা পারফরমেন্স করবে। পাশাপাশি ব্যাটসম্যানরা জ্বলে উঠলে সিরিজ জয় অসম্ভব কিছু নয়।’

অন্য দিকে চতুর্থ ম্যাচের পারফরমেন্সে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে ইংল্যান্ড। তাই শেষ ম্যাচে জয়ের জন্য উদগ্রীব পুরো দল বলে জানালেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মরগান, ‘চতুর্থ ম্যাচের জয় আমাদের অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। পিছিয়ে পড়ে সিরিজে কিভাবে ফিরতে হয়, দল হিসেবে আমরা দেখিয়েছি। মালানের ব্যাটিং ছিলো অবিশ্বাস্য। বোলাররাও ভালো করেছে।

শেষ ম্যাচে আবারো এক সাথে জ্বলে উঠতে পারলে সিরিজ আমাদেরই হবে। সিরিজ জয়ের স্বাদ নিতে পুরো দল মুখিয়ে আছে।’

নিউজিল্যান্ড দল : টিম সাউদি (অধিনায়ক), ট্রেন্ট বোল্ট, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মার্টিন গাপটিল. স্কট কুজেলিন, ড্যারিল মিচেল, কলিন মুনরো, জেমস নিশাম, মিচেল স্যান্টনার, টিম সেইফার্ট, ইশ সোধি, বেøয়ার টিকনার ও রস টেইলর।

ইংল্যান্ড দল : ইয়োইন মরগান (অধিনায়ক), জনি বেয়ারস্টো, টম বান্টন, স্যাম বিলিংস, প্যাট ব্রাউন, স্যাম কারান, টম কারান, জো ডেনলি, লুইস জিওর্জি, ক্রিস জর্ডান, সাকিব মাহমুদ, ডেভিড মালান, ম্যাট পারকিনসন, আদিল রশিদ ও জেমস ভিন্স।

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *