বেক্সিমকো ঢাকা বনাম ফরচুন বরিশাল , ছবিঃসংগৃহীত।

বরিশালকে বিদায় দিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে ঢাকা

তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশালকে এলিমিনেটর ম্যাচে ৯ রানে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টুয়েন্টি কাপে টিকে রইলো মুশফিকুর রহিমের বেক্সিমকো ঢাকা। এই জয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে উঠলো ঢাকা।

প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫০ রান করে ঢাকা। জবাবে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪১ রান করে বরিশাল।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্বান্ত নেয় তামিম ইকবালের বরিশাল।

প্রথমে ব্যাট হাতে নামা ঢাকার উপরের সারির তিন ব্যাটসম্যানকে দ্রুত প্যাভিলিয়নে পাঠান বরিশালের বোলাররা। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ওপেনার মোহাম্মদ নাইমকে ৫ রানে বিদায় দেন স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। আরেক ওপেনার সাব্বির রহমানকে শিকার করেন আরেক স্পিনার সোহরাওয়ার্দি শুভ। তিন নম্বরে নামা আল-আমিনকে রানের খাতাই খুলতে দেননি পেসার তাসকিন আহমেদ। ফলে ৬ রানেই ২ উইকেট, আর ২২ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ঢাকা।

এ অবস্থায় দলকে চাপমুক্ত করার চিন্তায় ছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। অষ্টম ওভারে জীবনও পেয়ে যান তিনি। এরপর উইকেটের সাথে মানিয়ে নিয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন মুশফিক। তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন পাঁচ নম্বরে নামা ইয়াসির।

১২ ওভার শেষে ৬৬ রান তুলেন মুশফিক-ইয়াসির। ১৩তম ওভারে মুশফিক-ইয়াসির জুটি বিচ্ছিন্ন করেন পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। নিজেই দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে মুশফিককে ব্যক্তিগত ৪৩ রানে থামিয়ে দেন তিনি। ৩০ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন মুশফিক। চতুর্থ উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন মুশফিক ও ইয়াসির।

অধিনায়ককে হারানোর পর ক্রিজে ইয়াসিরের সঙ্গী হন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক আকবর আলি।

দলের রানের গতি কম থাকায় দ্রুত রান তুলেন ইয়াসির-আকবর। ১৯ বলে ৩৬ রান আসে এই জুটিতে। এরমধ্যে ৯ বলে ২১ রান তুলেন আকবর। ইনিংসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকিয়ে । মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি।

১৬তম ওভারে আকবর ফিরে যাবার ঢাকাকে লড়াই করার পুঁজি এনে দেন ইয়াসির। তাসকিনের করা ১৮তম ওভারের শেষ দুই বলে বাউন্ডারি মেরে ৩৯তম বলে এবারের আসরে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইয়াসির। শেষ ওভারের প্রথম বলে ইয়াসিরকে থামান রাব্বি। ৪৩ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৪ রান করেন ইয়াসির। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫০ রানের সংগ্রহ পায় ঢাকা। বরিশালের মিরাজ ও রাব্বি ২টি করে উইকেট নেন।

টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য ১৫২ রানের টার্গেট পায় বরিশাল। সেই লক্ষ্যে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও সাইফ হাসান। কিন্তু দু’জনকে একত্রে ২১ রানের বেশি করতে পারেননি। ৩টি চারে ৯ বলে ১২ রান করা সাইফের উইকেট উপড়ে ফেলেন বাঁ-হাতি পেসার শফিকুল ইসলাম।

সাইফের বিদায়ে সাবধান হন তামিম-তিন নম্বরে নামা পারভেজ ইমন। তাই ৫ ওভার শেষে ২৫ রান উঠে বরিশালের। পাওয়ার-প্লের শেষ ওভারে ইমনকে থামিয়ে ঢাকাকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন রবিউল ইসলাম রাব্বি। ফলে ২৭ রানে ২ উইকেট হারায় বরিশাল।

এরপর আফিফ হোসেনকে নিয়ে বড় জুটি গড়ার পথে হাটচ্ছিলেন তামিম। তবে তাদের পথচলা টি-টুয়েন্টি মেজাজে ছিলো না।

১১ ওভারে ৫৯ রান বরিশালের স্কোর বোর্ডে ছিলো। ঐ ওভারের শেষ বলে তামিমকে আউট করে বরিশালকে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলেন ডান-হাতি পেসার মুক্তার আলী।

এরপর মিডল-অর্ডারে তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে দলের স্কোর শতরানের গোড়ায় নিয়ে যান আফিফ। রান তোলায় ব্যস্ত ছিলেন আফিফ।

তবে ১৫তম ওভারে বরিশাল শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন অফ-স্পিনার আল-আমিন। ঐ ওভারের শেষ দু’বলে হৃদয়-সোহরাওয়ার্দি শুভকে শিকার করেন তিনি। হৃদয়কে ১২ রানের বেশি ও সোহরাওয়ার্দি শুভকে রানই করতে দেননি আল-আমিন। এতে ৯৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বরিশাল।

১৭তম ওভারের প্রথম শফিকুলকে ছক্কা মেরে এবারের আসরে দ্বিতীয়বারের মত হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন আফিফ। ৩২ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ন করেন তিনি।

ঐ ছক্কার পর বরিশালের ম্যাচ জিততে প্রয়োজন পড়ে ২৩ বলে ৪৯ রান। আস্কিং রান রেট হয়ে যায় ১৩ । তাই আফিফের দিকেই চেয়েছিলো পুরো দল। কারন আগের ম্যাচে এই ঢাকার বিপক্ষেই ২৫ বলে অপরাজিত ৫০ রানের টনের্ডো ইনিংস খেলেছিলেন আফিফ।

কিন্তু ঐ ওভারের শেষ বলে আফিফকে থামান শফিকুল। ৩৫ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৫ রান করেন আফিফ।

আফিফের বিদায়ের পর শেষ ২ ওভারে জিততে ৩৫ রানে দরকার পড়ে বরিশালের। শফিকুলের করা ১৯তম ওভার থেকে ১৫ রান আসে। ১টি করে চার-ছক্কা মেরে ঐ ওভারেই আউট হন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। আর শেষ বলে চার মারেন মিরাজ।

শেষ ওভারে ২০ রানের সমীকরনে উইকেটে ছিলেন মিরাজ ও সুমন। প্রথম ৩ বলে সুমনের চারের মারে ৬ রান আসে। তাই শেষ ৩ বলে ১৪ রান দরকার পড়ে বরিশালের। কিন্তু চতুর্থ ও শেষ বলে উইকেট তুলে নিয়ে ঢাকাকে জয়ের স্বাদ দেন মুক্তার।

অঙ্কন-মিরাজ ১৫ রান করে ও সুমন ৫ রান করেন। ঢাকার শফিকুল ৩৯ রানে ও মুক্তার ১৮ রানে ৩ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন ঢাকার ইয়াসির।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বেক্সিমকো ঢাকা : ১৫০/৮ ( ২০ ওভার ,রান রেট -৭.৫০)
ইয়াসির- ৫৪
মুশফিক- ৪৩

মেহেদি- ২/২৩

ফরচুন বরিশাল : ১৪১/৯ ( ২০ ওভার ,রান রেট -৭.০৫)
আফিফ- ৫৫
তামিম -২২

মুক্তার- ৩/১৮

টস : ফরচুন বরিশাল , ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত।
ফল : বেক্সিমকো ঢাকা ৯ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : ইয়াসির আলি (বেক্সিমকো ঢাকা)।

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *