রশিদ খান , ছবি :সংগৃহীত।

বিশ্বকাপে সহযোগী দলগুলোকে দেখতে চান রশিদ খান

ঢাকা, ২২ জুলাই, ২০১৯ : ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই তিন ফর্মেটেই আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের নতুন অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন স্পিন তারকা রশিদ খান। তিন ফর্মেটেই আরো ধারাবাহিক হতে দলের কি প্রয়োজন, প্রিয় টেস্ট ভেন্যু,আগামী বিশ্বকাপসহ অনেক কিছু নিয়ে কথা বলেছেন ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর সঙ্গে।

প্রশ্ন : অধিনায়কত্ব পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন?
রশিদ: না। বআমি মোটেই বিস্মিত হয়নি। আমি আগে থেকেই । সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছিলাম, যার অর্থ হচ্ছে আপনি আগামী অধিনায়ক। মানসিকভাবে আমি এ জন্য প্রস্তুত ছিলাম। হ্যাঁ, খুব দ্রুতই এটা ঘটেছে। তবে যখন জাতীয় দল, দেশের বিষয়টি আসবে তখন অবশ্যই নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আপনাকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। সাধ্যমত আমি সর্বোচ্চ চেস্টা করব।

প্রশ্ন: আপনার কাছ থেকে আফগানিস্তানের কি দরকার আছে?
রশিদ : অনেক কিছুই করতে হবে। একজন নেতা হিসেবে এখান থেকে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা বিশ্বকাপ দেখছি, আমরা প্রতিপক্ষ দলগুলো দেখেছি, তাদের জন্য সঠিক প্রস্তুতি কি হওয়া উচিত এবং আমাদের খুব শক্ত মানসিকতার হতে হবে। এ ধরনের প্রতিযোগিতার জন্য আমাদের পুরোপাুরি ফিট থাকতে হবে এবং আমাদের ভালভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ বিষয়গুলো আমাদের অর্জন করতে হবে। এই মুহূর্তে আমরা সহযোগি দেশগুলোর বিপক্ষে খেলছিনা। আমরা পুর্ন সদস্য দেশগুলোর বিপক্ষে খেলছি। সুতরাং আমাদের ভাল পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বিষয় হচ্ছে ফিটনেস। আমাদের খুব ভাল ফিট থাকতে হবে। যারা যেকোন প্রতিপক্ষকে হারাতে পারে তেমন একটা ভাল দল হতে হলে আগামী বছরগুলোতে আমাদের এ বিষয়গুলোতে উন্নতি ঘটাতে হবে। আমাদের মেধা আছে, দক্ষতা আছে। আমাদের কেবলমাত্র এসব বিষয়ে উন্নতি ঘটাতে হবে।

প্রশ্ন: জাতীয় দলে আসছে আফগানিস্তানের এমন তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?
রশিদ: প্রথম বিষয় হচ্ছে ফিটনেস। জাতীয় দলে আসলে আপনাকে পুরোপুরি ফিট হতে হবে। আপনি আপনার দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অপর বিষয়টি হচ্ছে আপনার দক্ষতার ওপর আপনার কাজ করতে হবে। বিষয়টা এমন নয় যে, আপনি জাতীয় দলে এসে এ বিষয়ে কাজ শুরু করবেন। একবার জাতীয় দলে প্রবেশ করলে আপনার মানসিকতার বিষয়েও আরো বেশি কাজ করতে হবে। এবং একজন তরুণ তারকা হিসেবে আপনাকে সব সময় আত্মবিশ্বাসী হতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তারপর আপনি যে কোন কিছু অর্জন করতে পারেন।

প্রশ্ন: ২০২৩ বিশ্বকাপকে একটা লক্ষ্য হিসেবে রেখে আফগানিস্তানকে কি করতে হবে?
রশিদ: বিষয়টা আমাদের জন্য খুবই বড় একটা চ্যালেঞ্জ। যেমনটা আমি বলেছি, আমাদের মেধা ও দক্ষতা থাকতে হবে। তবে আমাদের উন্নতি ঘটাতে হবে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে কিভাবে খেলতে হয় এবং তাদের বিপক্ষে সঠিক প্রস্তুতি কি হওয়া দরকার-আমাদের সেগুলো জানতে হবে। যেমনটা দেখেছি- এই বিশ্বকাপে আমাদের ধুকতে হয়েছে। তবে ২০২৩ বিশ্বকাপ এখনো অনেক দূরে। এই মুহূর্তে আমাদের নজর ও লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ায় ২০২০ টি-২০ বিশ্বকাপ। দেখাব আমরা কতটা ভাল দল এবং গত বিশ্বকাপের তুলনায় আমরা আমরা কতটা ভাল করতে পারছি। আমাদের কেবলমাত্র উন্নতি করা এবং অতীতে যে ভুলগুলো করেছি সেগুলো কমিয়ে আনা দরকার। বিশেষ করে টি-২০তে আমাদের সামর্থ্য আছে এবং অতীতের তুলনায় এখন আমরা আরো ভাল দল। ২০২৩ বিশ্বকাপে আমাদের এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে, ৫০ ওভারের জন্য যথার্থ প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা বড় দলগুলোর বিপক্ষে যত বেশি খেলব, আমরা তত ভাল হবো। সুতরাং আমরা আরো বেশি ম্যাচ এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে সিরিজ খেলতে মুখিয়ে আছি।

প্রশ্ন: আপনি টেস্ট দলেরও অধিনায়ক।এ চ্যালেঞ্জটা কিভাবে নিচ্ছেন?
রশিদ: টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে আসল ক্রিকেট এবং এখানে সত্যিকারার্থেই তিন ফর্মেটেই আপনার পরীক্ষা মিলবে। আপনি কতটা ধীরস্থির, ঠান্ডা এবং আক্রমন করতে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন-এ বিষয়ের পরীক্ষা মিলবে। সেখানে যদি আমাদের উন্নতি ঘটে তবে সংক্ষিপ্ত ভার্সনের মত সেখানেও আমরা পারফর্ম করতে পারব। আমরা টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি অনেক বেশি নজর দিচ্ছি এবং আমাদের কেবল বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরো বেশি টেস্ট খেলা দরকার। দেশে চার দিনের ক্রিকেটের আমাদের ভাল একটা অবকাঠামো আছে। সুতরাং সেখানে আমরা উন্নতি করতে পারি। আমরা যথার্থ সুযোগ-সুবিধা এবং মাঠ পাচ্ছি এবং আগামী বছরগুলোতে আপনারা আফগানিস্তান ক্রিকেট থেকে তারকা দেখতে পাবেন।

প্রশ্ন: পুর্ন সদস্য হওয়ার আগে আফগানিস্তান এক সময় সহযোগি সদস্য ছিল। আপনি কি মনে করেন ৫০ ওভার ফর্মেটে ২০২৩ বিশ্বকাপের পর আরো বেশি সহযোগি দেশ থাকা উচিৎ( আগামী ২০২৩ বিশ্বকাপেও ১০ দলের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে আছে)?
রশিদ: অবশ্যই। এমনটা হলে প্রতিদ্বন্দিতা খুব বেশি উপভোগ্য হবে। ঐ সকল দল যদি আসে এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে ভাল করতে শুরু করে…অতীতে আমরা দেখেছি সহযোগি দেশগুলো বিশ্বকাপ খেলেছে এবং তারা পুর্ন সদস্য দেশগুলোকেও হারাতে পারে। যেমন ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। এটা ঘটেছে। সহযোগি দেশগুলো সে ধরনের পারফরমেন্স করেছে। তারা কঠোর পরিশ্রম করছে এবং সব সময়ই তারা বিশ্বকাপ খেলতে চায়। সুতরাং আমি অবশ্যই চাইব সহযোগি দেশগুলো বিশ্বকাপ খেলুক। এর মাধ্যমে দলগুলো বুঝতে পারবে-উন্নতি করতে তাদের কতটা কঠোর পরিশ্রম দরকার, নিজেদের দক্ষতা ও ক্রিকেটের জন্য আরো কত বেশি কঠোর পরিশ্রম তাদের করতে হবে।

প্রশ্ন একজন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে আপনি কোন ভেনুূতে নামতে পছন্দ করেন?
রশিদ: লর্ডস। লর্ডসে একটা টেস্ট খেলা সব সময়ই অনেক বেশি গর্ব ও আনন্দের মুহূর্ত। অধিনায়কের কথা ভুলে যান নিজ দেশর হয়ে সেরা একাদশে লর্ডসে টেস্ট খেলাই একটা স্বপ্নের চেয়েও অনেকক বেশি বড়। লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে পারলে আমি খুশি হবো। অপর প্রিয় ভেন্যু এডিলেড। এডিলেডে আমি দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে চাই। এটা এমন একটা কিছু- আমি যার স্বপ্ন দেখি।

প্রশ্ন: কেন?
রশিদ: আমি এ দুই ভেন্যুতে খেলতে পছন্দ করি। টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিনের। সুতরাং আপনি বার বার আসবেন এবং প্রতি দিন খেলবেন। যেটা করতে আমি ভালবাসি। এবং এ দুটি গ্রাউন্ড আমার প্রিয়।

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *