অস্ট্রেলিয়া বনাম ভারত টেস্ট ম্যাচ ২০২১ , ছবিঃ সংগৃহীত।

ভারতের দরকার ৩০৯ রান, অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ৮ উইকেট

সিডনি টেস্ট জিততে আগামীকাল ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিন ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ভারতকে আরও ৩০৯ রান করতে হবে। আর অস্ট্রেলিয়ার জিততে প্রয়োজন প্রতিপক্ষের ৮ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার ছুড়ে দেয়া ৪০৭ রানের বিশাল টার্গেটে খেলতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ২ উইকেটে ৯৮ রান করেছে ভারত। ৬ উইকেটে ৩১২ রান করে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষনা করে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৩৩৮ ও ভারত ২৪৪ রান করেছিলো।

প্রথম ইনিংস থেকে ৯৪ রানের লিড পেয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া। গতকাল, তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ১০৩ রান করে অসিরা। ফলে দ্বিতীয় দিন শেষে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ১৯৭ রানে এগিয়ে ছিলো অস্ট্রেলিয়া।

মার্নাস লাবুশেন ৪৭ ও স্টিভেন স্মিথ ২৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেন। দিনের পঞ্চম ওভারেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ১০ম সেঞ্চুরির তুলে নেন লাবুশেন। হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টা করে, ৭৩ রানে থেমে যান তিনি। ভারতের পেসার অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা নবদীপ সাইনির শিকার হন লাবুশেন। ৩৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর হাল ধরে লাবুশেন-স্মিথ জুটি ১০৩ রান করেন। ১১৮ বলে ৯টি চারে নিজের ইনিংস সাজান লাবুশেন।

লাবুশেনকে শিকারের পর পাঁচ নম্বরে নামা ম্যাথু ওয়েডকে দ্রæত বিদায় দেন সাইনি। মাত্র ৪ রান করেন তিনি। এরপর ক্যামেরুন গ্রিনকে নিয়ে আবারো বড় জুটি চেষ্টা করেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা স্মিথ, টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তার সাবলীল ব্যাটিং, এই ইনিংসেও সেঞ্চুরির ইঙ্গিত দিচ্ছিলো। কিন্তু ব্যক্তিগত ৮১ রানে স্মিথকে লেগ-বিফোর আউট করেন ভারতের স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিন। প্রথম ইনিংসে উইকেট শুন্য থাকা অশ্বিনের দ্বিতীয় ছিলেন স্মিথ।

১৬৭ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন স্মিথ। গ্রিনের সাথে দলকে ৬০ রান এনে দিয়েছিলেন তিনি।

স্মিথের আউটের পর অধিনায়ক টিম পাইনকে নিয়ে ১১৬ বলে ১০৪ রানের জুটি গড়ে ভারতকে বড় টার্গেট দিতে অবদান রাখেন গ্রিন। ১১৬ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর দ্রæত রান তুলেছেন গ্রিন।

৮৬তম ওভারের শেষ দুই বলে সিরাজকে দু’টি ছক্কা মারেন গ্রিন। ভারতের আরেক পেসার জসপ্রিত বুমরাহ’র করা ৮৭তম ওভারে চতুর্থ বলে চার ও পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন তিনি। তবে পরের ডেলিভারিতে গ্রিনকে পরাস্ত করে প্যাভিয়িনের পথ দেখান বুমরাহ। গ্রিনের আউটের সাথে-সাথে ইনিংস ঘোষনা করেন করেন অন্যপ্রান্তে থাকা অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক পাইন। ৩১২ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষনা করে অস্ট্রেলিয়া। ভারতের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৪০৭ রানের।

বুমরাহ’র বলে দু’বার জীবন পেয়ে ৫২ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন পাইন। আর ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১৩২ বলে ৮৪ রান করেন গ্রিন। ভারতের সাইনি-অশ্বিন ২টি করে, বুমরাহ-সিরাজ ১টি করে উইকেট নেন।

৪০৭ রানের টার্গেটে এই ইনিংসেও ভারতকে ভালো সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল। প্রথম ইনিংসে ৭০ রানের পর এবার জুটিতে ৭১ রান করেন তারা। ২৩তম ওভারের প্রথম বলে গিলকে আউট করে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার জশ হ্যাজেলউড। ৬৪ বলে ৪টি চারে ৩১ রান করেন গিল। প্রথম ইনিংসে ৫০ রান করেছিলেন তিনি।

প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে ফিরলেও, এবার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান রোহিত। অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার নাথান লিঁওকে বাউন্ডারি মেরে হাফ-সেঞ্চুরিতে পৌঁছান হিটম্যান।

তবে হাফ-সেঞ্চুরি পুর্ন করার পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার পেসার কামিন্সের ডেলিভারিকে পুল শট মেরে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন রোহিত। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৯৮ বলে ৫২ রান করে আউট হন রোহিত।

রোহিত যখন আউট হন তখন দিনের খেলার ২২ বল বাকী ছিলো। বাকী ২২ বলে কোন বিপদ হতে দেননি চেতেশ্বর পূজারা ও অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে। পূজারা ৯ ও রাহানে ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হ্যাজেলউড-কামিন্স ১টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (টস-অস্ট্রেলিয়া) :
অস্ট্রেলিয়া : ৩৩৮ ও ৩১২/৬ ডি, ৮৭ ওভার (গ্রিন ৮৪, স্মিথ ৮১, সাইনি ২/৫৪)।
ভারত : ২৪৪ ও ৯৮/২, ৩৪ ওভার (রোহিত ৫২, শুভমান ৩১, হ্যাজেলউড ১/১১)।

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *