ছবিঃ মোহাম্মদ আমির

শান্ত -আমিরের নৈপুন্যে ফাইনালে মুশফিকের খুলনা

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি ২০২০  : ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিং ও পাকিস্তানী পেসার মোহাম্মদ আমিরের বিধ্বংসী বোলিং-এ রাজশাহী রয়্যালসকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলো খুলনা টাইগার্স। আজ বঙ্গবন্ধু বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে রাজশাহী রয়্যালসকে ২৭ রানে হারায় মুশফিকুর রহিমের খুলনা। শান্তর ৫৭ বলে অপরাজিত ৭৮ রানের সুবাদে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫৮ রান করে খুলনা। জবাবে আমিরের পেস তোপে ১৩১ রানেই গুটিয়ে যায় রাজশাহীর ইনিংস। ১৭ রানে ৬ উইকেট নেন ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া আমির।

এ ম্যাচ হেরে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে গেল রাজশাহী। আগামী ১৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মুখোমুখি হবে রাজশাহী। ঐ ম্যাচের বিজয়ী দল ফাইনালে খুলনার মুখোমুখি হবে আগামী ১৭ জানুয়ারি।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেয় রাজশাহী রয়্যালস। ব্যাট হাতে এবার আর উড়ন্ত সূচনা করতে পারেননি খুলনার দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদি হাসান মিরাজ। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে ৪১ বলে ৭০ রান করেন শান্ত ও মিরাজ। আজ তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে দলীয় ১৫ রানে থামেন মিরাজ। পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইরফানের বলে ¯িøপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৮ রান করা মিরাজ।

এরপর উইকেটে যান এবারের আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক দক্ষিণ আফ্রিকার রাইলি রুশো। ৪ বল খেলে শুন্য রানে ফিরেন তিনি। ইরফানের দ্বিতীয় শিকার হন রুশো। ফলে ১৫ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারাতে হয় খুলনাকে।

দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর শান্ত-শামসুর রহমান জুটি বাঁধেন। আর এই জুটির শুরুতেই বিদায় নিতে পারতেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা শান্ত।

পাকিস্তানের স্পিনার শোয়েব মালিকের বলে বোল্ড হন তিনি। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ারের সহায়তায় নো-বলে ব্যক্তিগত ৯ রানে জীবন পান শান্ত।

জীবন পেয়ে শামসুর রহমানকে নিয়ে দলের স্কোরকে বড় করছিলেন শান্ত। ১২ ওভার শেষে ৯০ রানে পৌঁছে যায় খুলনা। তবে ১৩তম ওভারে এই জুটি ভাঙ্গেন রাজশাহীর ইংলিশ খেলোয়াড় রবি বোপারা। ৩১ বলে ৩২ রান করে ফিরেন তিনি। তৃতীয় উইকেটে ৫৮ বলে ৭৮ যোগ করেন শান্ত-শামসুর।

শামসুরের বিদায়ের পর ৩৬তম বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শান্ত। অর্ধশতকের পর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন শান্ত। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে হ্যামস্ট্রিং-এর ইনজুরিতে পড়ে আহত অবসর নেন মুশফিক। ১৬ বলে ২টি চারে ২১ রান করেন মুশফিক।

অধিনায়ক ফিরলে রাজশাহীর অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেলের শেষ ওভারে ২২ রান তুলেন শান্ত ও আফগানিস্তানের নজিবুল্লাহ জাদরান। শান্ত ২টি চার ও জাদরান ১টি করে চার ও ছক্কা মারেন। ৫৭ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ৭৮ রান করেন দু’বার জীবন পাওয়া শান্ত। আগের ম্যাচে ৫৭ বলে ৮টি চার ও ৭টি ছক্কায় অপরাজিত ১১৫ রান করেছিলেন শান্ত। অপরপ্রান্তে ১টি করে চার-ছক্কায় ৫ বলে ১২ রান করেন জাদরান। রাজশাহীর ইরফান ৪ ওভারে ১৩ রানে ২ উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৫৯ রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই আমিরের পেস তোপে দিশেহারা হয়ে পড়ে রাজশাহীর টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে দুর্দান্ত এক ইন-সুইংএ রাজশাহীর ওপেনার লিটন দাসের উইকেট উপড়ে ফেলেন আমির। ৩ বলে ২ রান করেন লিটন।

নিজের দ্বিতীয় ওভারে আরও দুই উইকেট শিকার করেন আমির। তার ঝুলিতে জমা পড়েন আরেক ওপেনার আফিফ হোসেন ও অলক কাপালি।

আফিফ ১১ ও কাপালি খালি হাতে প্যাভিলিয়নে ফিরেন। তাই ২২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে রাজশাহী।

আমিরের বিধ্বংসী রুপ দেখে উৎসাহি হয়ে উঠেন দক্ষিণ আফ্রিকার রবি ফ্রাইলিঙ্ক। অনপ্রান্ত দিয়ে ইংল্যান্ডের রবি বোপারাকে ১ রানে থামান তিনি। তবে এই উইকেটের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন দক্ষিণ আফ্রিকার রাইলি রুশো। মিড-অফ থেকে দেঁড়ে কভারের গিয়ে ঝাঁপ দিয়ে ক্যাচ নেন রুশো।

ফ্রাইলিঙ্ক উইকেট নিলেও, দমে যাননি আমির। নিজের তৃতীয় ওভারে রাজশাহীর প্রধান ভরসা অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেলকে খালি হাতে বিদায় দেন আমির। আর সেখানেই ম্যাচের ভবিষ্যত একরকম নিশ্চিতই হয়ে যায়। কারন প্রথম ৩৩ বলে ২৩ রানে ৫ উইকেটের পতন হয় রাজশাহীর। এরপর দলীয় ৩৩ রানে ফরহাদ রেজা বিদায় নিলে রাজশাহীর গুটিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাড়ায়।

কিন্তু সেটি হতে দেননি পাকিস্তাসের শোয়েব মালিক। এক প্রান্ত ধরে স্ট্রাইক নিয়ে খেলতে থাকেন তিনি। নন-স্ট্রাইকে থাকা তাইজুল ইসলামকে যতটা কম সুযোগ দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। চার-ছক্কার ফুলঝুড়িতে ৩৮ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মালিক। অর্ধশতকের পরও চার-ছক্কায় মাঠ মাতিয়েছেন মালিক। এতে দুঃসাহস করে হলেও, জয়ের চিন্তা করে রাজশাহী। শেষ ৩ ওভারে ৫৩ রান দরকার পড়ে তাদের।

কিন্তু ১৮তম ও নিজের শেষ ওভার করতে এসে জমে যাওয়া মালিক-তাইজুল জুটি ভাঙ্গেন আমির। ঐ ওভারে দু’জনকেই বিদায় দেন আমির। ফলে ম্যাচে তার বোলিং ফিগার দাড়ায় ৪ ওভারে ১৭ রানে ৬ উইকেট। টি-২০ ক্রিকেটেও তার সেরা বোলিং ফিগার। এমনকি বিপিএলের ইতিহাসেও এটিই সেরা বোলিং ফিগার। বিপিএলের ইতিহাসে আগের সেরা বোলিং ছিলো পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ সামির। ২০১২ সালে ঢাকা গøাডিয়েটর্সের বিপক্ষে ৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে খেলতে নামা সামি।

১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫০ বলে ৮০ রান করে আউট হন মালিক। ২৩ বলে ১২ রান করেন তাইজুল। সপ্তম উইকেটে ৫৭ বলে ৭৪ রান যোগ করেন তারা। এরমধ্যে ৩৪ বলে ৬০ রান ছিলো মালিকের।

মালিকের আউটের পর ইনিংসে শেষ বলে অলআউট হয় রাজশাহী। ১৩১ রানে আটকে যায় তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

খুলনা টাইগার্স : ১৫৮/৩ ( ২০ ওভার,রান রেট-৭.৯০)
শান্ত -৭৮* (৫৭ বল, স্ট্রাইক রেট- ১৩৬.৮৪)
শামসুর -৩২ (৩১ বল, স্ট্রাইক রেট- ১০৩.২২)
মুশফিক -২১(১৬ বল, স্ট্রাইক রেট- ১৩১.২৫)
ইরফান- ২/১৩

রাজশাহী রয়্যালস : ১৩১/১০( ২০ ওভার ,রান রেট-৬.৫৫)
মালিক- ৮০ (৫০ বল, স্ট্রাইক রেট- ১৬০.০০)
তাইজুল -১২ (২৩ বল, স্ট্রাইক রেট- ৫২.১৭)
রাব্বি -১১* (৬ বল, স্ট্রাইক রেট- ১৮৩.৩৩)
আমির- ৬/১৭

টস: রাজশাহী রয়্যালস , ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত।
ফল : খুলনা টাইগার্স ২৭ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : মোহাম্মদ আমির(খুলনা টাইগার্স)।

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *