বাংলাদেশ-পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল,ছবি: সংগৃহীত।

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে পাকিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ নারী দল

লাহোর, ৪ নভেম্বর, ২০১৯ : শ্বাসরুদ্ধকর সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে আজ পাকিস্তানকে ১ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করলো বাংলাদেশ-পাকিস্তান। প্রথম ওয়ানডেতে ২৯ রানে জিতেছিলো পাকিস্তান। এর আগে টি-২০ সিরিজে পাকিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিলো বাংলাদেশ। তাই এবারের পাকিস্তান সফরে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র জয়।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। দলকে ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার নাহিদা খান ও জাভেরিয়া খান। ৬৫ বলে ৫৮ রানের সূচনা করেন তারা। ২৪ রান করা জাভেরিয়াকে শিকার করে পাকিস্তান শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন বাংলাদেশের অধিনায়ক ও লেগ স্পিনার রুমানা আহমেদ।

এরপর অধিনায়ক বিসমাহ মারুফকে নিয়ে দলের স্কোরকে বড় করতে থাকেন আরেক ওপেনার নাহিদা খান। দু’জনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাকিস্তানের স্কোর শতরানের কোটা অতিক্রম করে ফেলে। ততক্ষণে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদও নিয়ে নেন নাহিদা। শেষ পর্যন্ত দলীয় ১০৫ রানে আউট হন নাহিদা। রুমানার দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৮টি চারে ৭৯ বলে ৬৩ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে ৪৭ রান যোগ করেন মারুফ-নাহিদা।

নাহিদার বিদায়ে উইকেটে যান চার নম্বরে নামা উমাইমা সোহাইল। তাকে ৪ রানের বেশি করতে দেননি রুমানা। নিজের তৃতীয় শিকার পূর্ণ করেন তিনি। এরপর আলিয়া রিয়াজকে নিয়ে দলের হাল ধরেন মারুফ। দু’জনে খেলার নিয়ন্ত্রন নিজেদের দখলেই রেখেছিলেন। তাই বড় স্কোরের পথ তৈরি হচ্ছিলো পাকিস্তানের।

কিন্তু পরপর দু’ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের রানের লাগাম টেনে ধরেন বাংলাদেশের অফ-স্পিনার সালমা খাতুন।

মারুফকে ৩৪ ও ইরাম জাভেদকে ১ রানে আউট করেন সালমা। ফলে ১৫৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপর দারুণভাবে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান দলের বোলাররা। ফলে বাকী ৫ উইকেটে আর মাত্র ৫২ রান যোগ করে ২১০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। পরের দিকে রিয়াজ ৩৬, সিদ্রা নওয়াজ অপরাজিত ১৯ ও সানা মির ১৩ রান করে আউট হন। বাংলাদেশের রুমানা ৩টি, সালমা ২টি ও পান্না ১টি উইকেট নেন।

জবাবে দলীয় ২৯ রানেই ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২৯ রানের মধ্যে ২৭ই ছিলো ওপেনার শারমিন সুলতানার। তিন নম্বরে নামা উইকেটরক্ষক নিগার সুলতানা রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। ফলে ২৯ রানেই ২ উইকেট হারাতে হয় বাংলাদেশ। এ অবস্থায় দলের হাল ধরেন আরেক ওপেনার মুরশিদা খাতুন ও ফারজানা হক।

উইকেটে সেট হয়ে দলের স্কোর বড় করতে থাকেন মুরশিদা ও ফারজানা। সময় গড়ানোর সাথে সাথে বড় হতে থাকে তাদের জুটি, সেই সাথে বাংলাদেশের স্কোরও। এতে দলীয় স্কোর শতরান অতিক্রমও করে। তবে দলীয় ১১১ রানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা। ৬টি চারে ৬৭ বলে ৪৪ রান করে থামেন মুরশিদা। এই জুটি দলকে ৮২ রান উপহার দেন।

এরপর রুমানার সাথে আবারো বড় জুটির চেষ্টা করেন ফারজানা। এখানেও সাফল্যের মুখ দেখে বাংলাদেশ। দু’জনের ৫৭ রানের জুটিতে জয়ের পথ সহজ হয়ে যায় বাংলাদেশের। কারন তখন জয় থেকে ৪৩ রান দূরে বাংলাদেশ। হাতে ছিলো ৭ উইকেট ও ৬৯ বল। কিন্তু দলীয় ১৬৮ রানে আউট হন রুমানা। আর এরপরই যাওয়া আসার মিছিল শুরু করেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

১৬৮ থেকে ২০৫ রানে পৌঁছাতেই নবম উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। ফলে ম্যাচ হারের শংকায় পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৬ রান যোগ করে ১ বল বাকী থাকতে বাংলাদেশকে অসাধারন এক জয় এনে দেন জাহানারা আলম ও নাহিদা আকতার। জাহানারা ৭ ও নাহিদা ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া ফারজানা ৬টি চারে ৯৭ বলে ৬৭, রুমানা ৩১ ও সানজিদা ২০ রান করেন। পাকিস্তানের সৈয়দা আরব শাহ ও মারুফ ২টি করে উইকেট নেন।

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *