বিরাট কোহলি , ছবি: সংগৃহীত।

সঠিক ডায়েট, সুশৃংখল প্রশিক্ষণ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি : কোহলি

একজন ভাল ক্রিকেটার থেকে আজ বিশ্ব সেরার স্বীকৃতি পাওয়া ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির ক্রিকেটীয় যাত্রা সর্বদাই অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করে থাকে। বিশ্বের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই তার ব্যাটিং গড় ৫০এর উপর। তার এই সাফল্যের চাবিকাটির মূলে নিহিত আছে সঠিক ডায়েট, সুশৃংখল প্রশিক্ষণ।

কোরোনাভাইরাস প্রতিরোধ

কোরোনাভাইরাস প্রতিরোধ

তামিম ইকবালের লাইভ শো’তে আমন্ত্রিত হওয়া ভারত অধিনায়ক আবারো সঠিক ডায়েট ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের উপর জোর দিলেন। তিনি মনে করেছেন এগুলো যে কোন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে একটা আমুল পরিবর্তন আনতে পারে।

রোহিত শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের লাইভ শোতে অতিথি হয়ে আসেন আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংএ শীর্ষে,টেস্টে দ্বিতীয় ও টি-২০তে দশম স্থানে থাকা ব্যাটসম্যান কোহলি।

সোমবার রাতে তামিমের ফেসবুক পেইজে ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত লাইভ আড্ডায় কোহলি বলেন, ‘আপনি যদি পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে নামেন এবং অনেক বেশি প্রশিক্ষণ আপনার থাকে, এটি আপনাকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে। এটি নিশ্চিত করতে পারেনা যে, প্রতিবার আপনি মাঠে নামবে, সেঞ্চুরি করে শেষ করবেন। তবে আপনি আপনার সুযোগ সম্পর্কে সব সময় আত্মবিশ্বাসী থাকবেন।’

‘সঠিক ডায়েট আপনার ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি। আপনি যদি নিজকে ফিট রাখেন, তবে সঠিক ডায়েট গ্রহণ করুন এবং এর সাথে আপনি কোন আপোষ করবেন না।’

ফিটনেসের স্বার্থে কোন ব্যক্তি কিভাবে সকল প্রকার মুখের খাবার এড়াতে পারে তার জলন্ত উদাহরণ হচ্ছেন কোহলি।

২০০৮ সালে ভারতকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে দারুণ ভুমিকা রাখা কোহলি ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে ছিলেন ছিলেন কেবলমাত্র একজন ভাল ব্যাটসম্যান।এরপর রানের তোলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৪ সালে ইংলিশ কন্ডিশনে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে সমালোচকরা, কোহলির সমালোচনায় মেতে উঠেন এবং বলা হয়, ‘সে একজন সাধারন মানের ব্য্যাটসম্যান।’

তবে বিশ্বের সেরা হতে মরিয়া কোহলি তখন ডায়েট ও ফিটনেস সেশনে নাটকীয় পরিবর্তন আনেন। এক কথায়, তার ফিটনেস অদ্ভুত হয়ে উঠে এবং দ্রুত সেই পুরস্কারও পান তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রায় ৭শ রান করেন কোহলি। তার আগে, বিশ্বের সকল জায়গায় ভাল রান পেয়েছেন তিনি।

এরপর আরেকটা টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যন্ড সফর করেন কোহলি। যা তাকে বিশ্ব সেরা প্রমানের জন্য ‘শেষ সীমান্ত’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল। এবং তিনি তাতে বেশ ভালভাবেই উতরে যান।

ঐ কন্ডিশনকে সবচেয়ে বেশি কঠিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিলো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দল হারলেও ৫শর বেশি রান করেছিলেন কোহলি। ঐ সিরিজে দলের অন্য কোন ব্যাটসম্যান ৩৩০ রানের বেশি করতে পারেননি। যা থেকে বোঝা যায় উইকেট যে কতটা কঠিন ছিলো।

তামিম সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিলে কোহলি বলেন, ‘আপনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল হতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে, যা খেলোয়াড়দের জন্য সবসময়ই কঠিন। ক্যারিয়ারের শুরুতে কয়েকটি ম্যাচের পর আমি দল থেকে বাদ পড়ি।

২০০৯ সালে আমি আবারো সুযোগ পাই। আমার আত্মবিশ্বাস তখন থেকে বাড়তে শুরু করে। শ্রীলংকার বিপক্ষে যখন আমি প্রথম সেঞ্চুরি করি, তখন আমি বিশ্বাস করা শুরু করলাম, আমি দীর্ঘ সময়ের জন্য এটা করতে পারব। ’

তিনি আরও বলেন, ‘এখনো আমাকে ধুকতে হয়। তবে এক পর্যায়ে, আমি অনুভব করেছি আমার আরও কিছু করা দরকার। তাই ডায়েট ও ফিটনেস প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করা হয়।’

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *