বাংলাদেশ ক্রিকেট টীম ,ছবিঃসংগৃহীত।

সিরিজ জয়ে ধারবাহিক পারফর্মেন্স চায় টাইগাররা

চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯  : আইসিসি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম প্রত্যয়ী ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। বুধবার চট্টগ্রামে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপুটে পারফর্মেন্স দিয়েই ৩৯ রানে জয়লাভ করেছে টাইগাররা।

এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবং ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের জয় দু’টিতে ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। দুই ম্যাচের অনিশ্চিত ওই জয়ের বাইরে সব ফর্মেটেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ছিল ব্যর্থতায় ভরা।

তারা হতাশ করেছে এ দেশের বিপুল সংখ্যক ক্রিকেট অনুরাগীকে। এমন পরিস্থিতিতেও দেশবাসী ত্রিদেশীয় সিরিজ জয় করার ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারেনি। খেলোয়াড়রা পায়নি আত্মবিশ্বাস। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গতকালের জয়টি সবার মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

মূলত সিনিয়র খেলোয়াড়দের ফর্মহীনতাই বাংলাদেশ দলের এমন ব্যর্থতার মুল কারণ। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গতকালের ম্যাচে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিংয়ে টিকে থাকার মাধ্যমে তারা পূর্বের ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর সিনিয়র খেলোয়াড়রা যখন ভাল খেলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই জয়লাভ করে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশকে দাপুটে জয় এনে দেয়ার নায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেন, জয় আদায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেয়ার এটিই সঠিক সময়। গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘নিকট অতীতে আমরা ভাল করতে ব্যর্থ হয়েছি। শ্রীলংকায় আমরা সিরিজ হারার পর আফগানিস্তানের কাছেও একমাত্র টেস্টে পরাজিত হয়েছি। আমার মনে হয় জয় পাবার জন্য সবাই এখন মুখিয়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি, যেখানে সাকিব ছিলেন মধ্যমনি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে ফাইনালের আগেই আফগানিস্তানের বিপক্ষেও পরের ম্যাচে এভাবে প্রভাব বিস্তার করে খেলার মাধ্যমে জয়লাভ করা। যা আমাদেরকে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।’

মাহমুদুল্লাহর মত মুশফিকুর রহিমও ফর্মে ফিরেছেন। ৩২ রান সংগ্রহকারী টাইগার দলের এই ব্যাটসম্যান চতুর্থ উইকেট জুটিতে মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে ৭৮ রানের পার্টনারশীপ গড়ে তুলেছিলেন। যার উপর ভিত্তি করে স্বাগতিক দল বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। কিন্তু সুইপ শট খেলতে গিয়ে প্রকারান্তরে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন মুশফিকুর। তবে সতীর্থ ওই খেলোয়াড়ের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন মাহমুদুল্লাহ। বলেছেন এমন শট খেলেই তিনি নিয়িমিত রান সংগ্রহ করেছেন। এই বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন।

তিনি বলেন, ‘মুশফিক প্রায়ই এমন শট খেলে রান সংগ্রহ করেন।’

৪১ বলের মোকাবেলায় ৬২ রান সংগ্রহ করার পর ম্যাচের শেষ ওভারে আউট হয়ে যাওয়া মাহমুদুল্লাহ বলেন, শুরুতে তাদের জন্য একটি ভাল মঞ্চ তৈরী করে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘লিটন ও শান্তর উদ্বোধনী পার্টনারশীপটি ছিল অসাধারন। আমার মতে তাদের ৪৯ রানের ওই ওপেনিং পার্টনারশীপই পরবর্তীতে আমাদেরকে নির্ভার হয়ে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে।’

সিনিয়রদের কাছে ম্যানেজমেন্টের বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে উল্লেখ করে মাহমুদুল্লাহ বলেন, তাদের চেস্টা থাকবে এই ধারাবাহিকতা দিয়ে দলকে একটি ভাল অবস্থানে পৌঁছে দেয়া। তিনি বলেন, ‘আমাদের উপর টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা রেখেছে। অন্যদের তুলনায় আমাদের দায়িত্বও বেশি। আশা করি এর প্রতিদান আমরা দিতে পারব। ধারবাহিক পারফর্মেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেটি দল আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে। সুতরাং এ বিষয়ে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।’

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *