ছবি: ২০১৯ ক্রীড়াঙ্গন , সংগৃহীত।

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন যাদের হারিয়েছে

ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯  : আর্জেন্টাইন ফুটবলার এমিলিয়ানো সালা থেকে শুরু করে মটর রেসিং লিজেন্ড নিকি লওডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯৯৫ সালের রাগবি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন চেস্টার উইলিয়ামসসহ আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে অনেকেই এ বছর মৃত্যুবরণ করেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন এ বছর যাদের হারিয়েছে :

এমিলিয়ানো সালা (২৮) :
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেবার সময় আর্জেন্টাইন এই ফুটবলারকে বহনকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হলে গত ২১ জানুয়ারি নিহত হন এমিলিয়ানো সালা। নঁতে থেকে ১৭ মিলিন ইউরোতে কার্ডিফে যোগদানের উদ্দেশ্যে তিনি যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু নতুন ক্লাবে আর যাওয়া হয়নি সালা’র।

নিকি লওডা (৭০) :
ফুসফুস প্রতিস্থাপনের মাত্র আট মাসের মাথায় গত ২০ মে মৃত্যুবরণ করেন তিনবারের ফর্মুলা ওয়ান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার নিকি লওডা। ১৯৭৬ সালে রেসিং করতে গিয়ে লওডার গাড়িটি দূর্ঘটনায় পড়ে আগুন ধরে গিয়েছিল। সেই দূর্ঘটনায় মুখ ও হাতে মারাত্মক ভাবে অগিদগ্ধ হয়েছিলেন লওডা। ঐ সময় তার ফুসফুসও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মুত্যর সাথে লড়াই করে ঐ সময় তিনি হাসপাতাল থেকে ফেরত এসে মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে আবারো রেসিং ট্র্যাকে নেমেছিলেন।

হোসে এ্যান্টোনিও রেয়েস (৩৫) :
স্পেনের সাবেক এই লেফট উইঙ্গার গত ১ জুন সেভিয়া থেকে ইউট্রেয়া যাবার পথে হাইওয়েতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ী অপ্রতিরোধ্য আর্সেনালের সদস্য ছিলেন রেয়েস। আর্সেনাল থেকে এসে তিনি রিয়াল মাদ্রিদ ও এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদেও খেলেছেন।

মারিয়েকে ভারভুর্ট (৪০) :
প্যারালিম্পিক চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়ামের মারিয়েকে ভারভুর্ট দীর্ঘদিন পেশীর সংক্রমনের ভোগার পর গত ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। বেশ কয়েকটি প্যারালিম্পিক স্বর্ণ পদকজয়ী এই এ্যাথলেট ২০১৬ রিও গেমসের পর তার কঠিন জীবনের কাহিনী সকলের কাছে প্রকাশ করে বলেছিলেন এই কষ্টের থেকে মৃত্যুই ভাল। পেশীতে অব্যাহত প্রচন্ড ব্যথার কারনে তার পা প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছিল।

বব উইলিস (৭০) :
ইংল্যান্ড ক্রিকেট লের সাবেক এই পেসার ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাটকীয় টেস্ট হয়ের মূল কারিগর ছিলেন। গত ৪ ডিসেম্বর ৭০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইংল্যান্ডের হয়ে উইলিস ৯০টি টেস্টে ৩২৫টি উইকেট দখল করেছেন। আগ্রাসী বোলিংয়ের জন্য তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৮৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের আগে তিনি দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করেছেন। ক্রিকেট ছেড়ে তিনি ব্রডাকাস্টিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

চেস্টার উইলিয়ামস (৪৯) :
১৯৯৫ সালের রাগবি বিশ্বকাপ জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার এই লেফট উইঙ্গার গত ৬ সেপ্টেম্বর জিম থেকে বাড়ি ফিরে হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯৫ সালে বিশ্বকাপ জয়ী দলের একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় ছিলেন উইলিয়ামস। বেশ কয়েক দশক ধরে শুধুমাত্র শেতাঙ্গ খেলোয়াড়দের জন্য দক্ষিন আফ্রিকান রাগবি দলটি জায়গা বরাদ্দ থাকলেও এক্ষেত্রে উইলিয়ামস সেই প্রথা ভাঙ্গতে সক্ষম হয়েছিলেন।

জেমস স্মল (৫০) :
১৯৯৫ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকান রাগবি দলের আরেক উইঙ্গার জেমস স্মল ১০ জুলাই হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

গর্ডন ব্যাংকস (৮১) :
১৯৬৬ সালে ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড দলের মূল গোলরক্ষক ছিলেন গর্ডন ব্যাংকস। ইংল্যান্ডের হয়ে ঐ বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচ খেলা গর্ডন ১২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে কিংবদন্তী ফুটবলার পেলের একটি শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দিয়ে গর্ডন সকলের কাছে এখনো চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। পেলে নিজেও বলেছিলেন ক্যারিয়ারে এমন সেভ তিনি কখনই দেখেননি।

টাইলা স্কাগস (২৭) :
মেজর লিগ বেসবলের ক্লাব লস এ্যাঞ্জেলেস এ্যাঞ্জেলসের খেলোয়াড় টাইলার স্কাগসকে গত ১ জুলাই তার হোটেল রুমের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। টেক্সাস রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে মেডিকেল রিপোর্টে পাওয়া গেছে চেতনানাশক ইঞ্জেকশন শরীওে ঢুকিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

রেমন্ড পোলিডর (৮৩) :
সারা বিশ্বের রেসিং সাইক্লিস্টদের কাছে দারুন জনপ্রিয় রেমন্ড গত ১৩ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেণ। ফ্রেঞ্চ এই তারকা রাইডার ক্যারিয়ারে কখনই ট্যুর ডি ফ্রান্স না জেতার কারনে সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনটি ট্যুও ডি ফ্রান্স আসরে তিনি দ্বিতীয় হয়েছেন ও পাঁচটিতে হয়েছেন তৃতীয়। বেলজিয়াম কিংবদন্তী সাইক্লিস্ট এডি মার্কসের দাপটের কাছে কখনই পেরে উঠেননি রেমন্ড।

এন্থোনি হাবার্ট (২২) :
ফ্রেঞ্চ ফর্মুলা ওয়ান এই ড্রাইভার গত ৩১ আগস্ট মাত্র ২২ বছর বয়সে বেলজিয়ান গ্রাঁ প্রি’তে রেসিংয়ের সময় অত্যধিক গতির কারনে দূর্ঘটনায় পতিত হয়ে নিহত হন।

ফ্র্যাংক রবিনসন (৮৩) :
কিংবদন্তী এই বেসবল খেলোয়াড় হাড়ের ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘদিন লড়াই করে গত ৭ ফেব্রæযারি মৃত্যুবরণ করেন। প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক হিসেবে রবিনসন মেজর লিগে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বণ্যাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি ওয়ার্ল্ড সিরিজের শিরোপা জিতেছেন। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ন্যাশনাল লিগ ও আমেরিকান লিগের এমভিপি এ্যাওয়ার্ড জেতার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

হিডেকিচি মিয়াজিকি (১০৮) :
১০৫ বছর উর্ধ্ব ক্যাটাগরিতে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বিশ্ব রেকর্ডধারী জাপানীজ এই শতবর্ষী এ্যাথলেট গত ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৮ বছর।

কেলি ক্যাটলিন (২৩) :
যুক্তরাস্ট্রের তিন বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সাইক্লিস্ট মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। আর এই বিষন্নতায় ভুগে মাত্র ২৩ বছর বয়সে গত ৭ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা ছাড়াও ২০১৬ রিও অলিম্পিকে তিনি রৌপ্য পদক জয় করেছিলেন।

জেসি কম্বস (২৯) :
নারী রেসারদের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম ড্রাইভার হিসেবে পরিচিত জেসি কম্বস গত ২৭ আগস্ট এক সড়ক দূর্ঘটনা নিহত হন। ২০১৩ সালে প্রতি ঘন্টায় ৩৯৮ মাইল বেগে গাড়ি চালিয়ে কম্বস ‘দ্রুততম নারী’র খেতাক জয় করেছিলেন।

পারনেল হুইটাকার (৫৫) :
বক্সিংয়ে সাবেক এই স্বর্ণজয়ী তারকা ও চারবারের ওয়েইট ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন গত ১৪ জুলাই ভার্জিনিয়ায় এক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হন। তার প্রজন্মে অন্যতম প্রতিভাবান বক্সার হিসেবে পরিচিত ছিলেন হুইটাকার।

আন্দ্রেস গিমেনো (৮২) :
ফ্রেঞ্চ ওপেন টেনিসে সবচেয়ে বেশী বয়সী চ্যাম্পিয়ন গিমেনো গত ৯ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭২ সালে ৩৪ বছর বয়সে রোলা গ্যাঁরো জয় করে তিনি রেকর্ড গড়েছিলেন। এছাড়া ক্যারিয়ারে তিনি ১৯৬৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল ও ১৯৭০ সালে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে খেলেছেন।

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *